Logo
  • Home
  • গীতা ও গীতাসংঘ
  • সনাতন ধর্ম
  • কমিটি
  • আজীবন সদস্য
  • স্মরণীয় ছবি ও ভিডিও
  • আসন্ন অনুষ্ঠান সূচী
গীতা, গীতার শ্লোক ও অর্থ, গীতা মাহাত্ম্য, গীতা ১ম অধ্যায়:- অর্জুনবিষাদযোগ

 ১৮.মোক্ষযোগ..................
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিশ্ববাসীকে উদ্দেশ্য করে অর্জুনকে শ্রীমদ্ভগবদগীতা জ্ঞান দান করেন  ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ..........
 ১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ
শ্লোক ও বাংলায় অর্থ দেখতে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের উপর ক্লিক করুন  ১৫.পুরুষোত্তমযোগ.............
গীতাপাঠপূর্ব মঙ্গলাচরণ:- ও গীতার ধ্যান:- দেখতে ক্লিক করুন  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ.........
 ১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ........
 ১২.ভক্তিযোগ...................
  শ্রীবৈষ্ণবীয়-তন্ত্রসারে গীতা-মাহাত্ম্য:-    ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.........
  শ্রীশঙ্করাচার্য প্রণীত গীতা-মাহাত্ম্য:-   .  ১০.বিভূতিযোগ................
  শ্রীল ব্যাসদেব কৃত গীতা-মাহাত্ম্য:-   ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.
 ০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ...........
 সুনির্বাচিত শ্লোক    ০৭.জ্ঞানবিজ্ঞানযোগ.........
 ০৬.ধ্যানযোগ................
 প্রার্থনা    ০৫.কর্মসন্যাসযোগ..........
 ০৪.জ্ঞানযোগ.................
 ০৩.কর্মযোগ.................
 ০২.সাংখ্যযোগ...............
০১.অর্জুনবিষাদযোগ.....

কর্মষটক *

ভক্তিষটক *

জ্ঞানষটক *

শ্রীমদ্ভগবদগীতা

Back ১৬শ অধ্যায়:- দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ (শ্লোক:- 24) শ্লোক ও অর্থ দেখতে ক্লিক করুন Next

1:অভয়ং সত্ত্বসং

2:অহিংসা সত্যমক্রোধ 3:তেজঃ ক্ষমা ধৃতিঃ 4:দম্ভো দর্পোহভিমানশ্চ 5:দৈবী সম্পদ্ বিমো 6:দ্বৌ ভূতসর্গৌ
7:প্রবৃত্তিং চ নিবৃত্তি 8:অসত্যমপ্রতিষ্ঠং 9:এতাং দৃষ্টিমবষ্টভ্য 10:কামমাশ্রিত্য 11:চিন্তামপরিমেয়াং 12:আশাপাশশতৈর্বদ্ধা
13:ইদমদ্য ময়া 14:অসৌ ময়া হতঃ 15:আঢ্যোহভিজনবান 16:অনেকচিত্তবিভ্রান্তা 17:আত্মসম্ভাবিতাঃ 18:অহঙ্কারং বলং
19:তানহং দ্বিষতঃ 20:আসুরীং যোনিমা 21:ত্রিবিধং নরকস্যেদং 22:এতৈর্বিমুক্তঃ কৌন্তে 23:যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎ 24:তস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণং
শ্লোক: . .

  অর্থ:- . . .

দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ- এর সার সংক্ষেপ:-

এ উদ্যোগটি আপনার ভাল লাগলে লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুন এবং বেশি বেশি প্রচার করুন।





শ্লোক:

=অনুবাদ=

শ্লোক:1:
শ্রীভগবানুবাচ
অভয়ং সত্ত্বসংশুদ্ধির্জ্ঞানযোগব্যবস্থিতিঃ ।
দানং দমশ্চ যজ্ঞশ্চ স্বাধ্যায়স্তপ আর্জবম্ ॥১॥

অভয়ম্, সত্ত্বসংশুদ্ধিঃ, জ্ঞানযোগ-ব্যবস্থিতিঃ,
দানম্, দমঃ, চ, যজ্ঞঃ, চ, স্বাধ্যায়ঃ, তপঃ, আর্জবম্ ॥১॥
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে ভারত ! ভয়শূন্যতা, সত্তার পবিত্রতা, পারমার্থিক জ্ঞানের অনুশীলন, দান, আত্মসংযম, যজ্ঞ অনুষ্ঠান, বৈদিক শাস্ত্র অধ্যয়ন, তপশ্চর্যা, সরলতা, অহিংসা, সত্যবাদিতা, ক্রোধশূন্যতা, বৈরাগ্য, শান্তি, অন্যের দোষ দর্শন না করা, সমস্ত জীবে দয়া, লোভহীনতা, মৃদুতা, লজ্জা, অচপলতা, তেজ, ক্ষমা, ধৈর্য, শৌচ, মাৎসর্য শূন্যতা, অভিমান শূন্যতা- এই সমস্ত গুণগুলি দিব্যভাব সমন্বিত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়।
শ্লোক:2:
অহিংসা সত্যমক্রোধস্ত্যাগঃ শান্তিরপৈশুনম্ ।
দয়া ভূতেষ্বলোলুপ্তং মার্দবং হ্রীরচাপলম্ ॥২॥

অহিংসা, সত্যম্, অক্রোধঃ, ত্যাগঃ, শান্তিঃ, অপৈশুনম্ ,
দয়া, ভূতেষু, অলোলুপ্তম্, মার্দবম্, হ্রীঃ, অচাপলম্ ॥২॥
শ্লোক:3:
তেজঃ ক্ষমা ধৃতিঃ শৌচমদ্রোহো নাতিমানিতা ।
ভবন্তি সম্পদং দৈবীমভিজাতস্য ভারত ॥৩॥

তেজঃ, ক্ষমা, ধৃতিঃ, শৌচম্, অদ্রোহঃ, ন-অতি-মানিতা,
ভবন্তি, সম্পদম্, দৈবীম্, অভিজাতস্য, ভারত ॥৩॥
শ্লোক:4:
দম্ভো দর্পোহভিমানশ্চ ক্রোধঃ পারুষ্যমেব চ ।
অজ্ঞানং চাভিজাতস্য পার্থ সম্পাদমাসুরীম্ ॥৪॥

দম্ভঃ, দর্পঃ, অভিমানঃ, চ, ক্রোধঃ, পারুষ্যম্, এব, চ ।
অজ্ঞানম্, চ, অভিজাতস্য, পার্থ, সম্পাদম্, আসুরীম্ ॥৪॥
অর্থ:- হে পার্থ ! দম্ভ, দর্প, অভিমান, ক্রোধ, রূঢ়তা ও অবিবেক- এই সমস্ত সম্পদ আসুরিক ভাবাপন্ন ব্যক্তিদের লাভ হয়।
শ্লোক:5:
দৈবী সম্পদ্ বিমোক্ষায় নিবন্ধায়াসুরী মতা ।
মা শুচঃ সম্পদং দৈবীমভিজাতোহসি পাণ্ডব ॥৫॥

দৈবী, সম্পৎ, বিমোক্ষায়, নিবন্ধায়, আসুরী, মতা,
মা, শুচঃ, সম্পদম্, দৈবীম্, অভিজাতঃ, অসি, পাণ্ডব ॥৫॥
অর্থ:- দৈবী সম্পদ মুক্তির অনুকূল, আর আসুরিক সম্পদ বন্ধনের কারণ বলে বিবেচিত হয়। হে পাণ্ডুপুত্র ! তুমি শোক করো না, কেন না তুমি দৈবী সম্পদ সহ জন্মগ্রহণ করেছ।
শ্লোক:6:
দ্বৌ ভূতসর্গৌ লোকেহস্মিন্ দৈব আসুর এব চ ৷
দৈবো বিস্তরশঃ প্রোক্ত আসুরং পার্থ মে শৃণু ॥৬॥

দ্বৌ, ভূতসর্গৌ, লোকে, অস্মিন্, দৈবঃ, আসুরঃ, এব, চ,
দৈবঃ, বিস্তরশঃ, প্রোক্তঃ, আসুরম্, পার্থ, মে, শৃণু ॥৬॥
অর্থ:- হে পার্থ ! এই সংসারে দৈব ও আসুরিক- এই দুই প্রকার জীব সৃষ্টি হয়েছে৷দৈব সম্বন্ধে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। এখন আমার থেকে অসুর প্রকৃতি সম্বন্ধে শ্রবণ কর।
শ্লোক:7:
প্রবৃত্তিং চ নিবৃত্তিং চ জনা ন বিদুরাসুরাঃ ৷
ন শৌচং নাপি চাচারো ন সত্যং তেষু বিদ্যতে ॥৭॥

প্রবৃত্তিম্, চ, নিবৃত্তিম্, চ, জনাঃ, ন, বিদুরাসুরাঃ,
ন, শৌচম্, ন, অপি, চ, আচারঃ, ন, সত্যম্, তেষু, বিদ্যতে ॥৭॥
অর্থ:- অসুরস্বভাব ব্যক্তিরা ধর্ম বিষয়ে প্রবৃত্ত এবং অধর্ম বিষয় থেকে নিবৃত্ত হতে জানে না। তাদের মধ্যে শৌচ, সদাচার ও সত্যতা বিদ্যমান নেই।
শ্লোক:8:
অসত্যমপ্রতিষ্ঠং তে জগদাহুরনীশ্বরম্ ৷
অপরস্পরসম্ভূতং কিমন্যৎ কামহৈতুকম্ ॥৮॥

অসত্যম্, অপ্রতিষ্ঠম্, তে, জগৎ, আহু, অনীশ্বরম্ ৷
অপরঃ-পর-সম্ভূতম্, কিম্, অন্যৎ, কামহৈতুকম্ ॥৮॥
অর্থ:- আসুরিক স্বভাববিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলে যে, এই জগৎ মিথ্যা, অবলম্বনহীন ও ঈশ্বরশূন্য৷ কামবশত এই জগৎ উৎপন্ন হয়েছে এবং কাম ছাড়া আর অন্য কোন কারণ নেই।
শ্লোক:9:
এতাং দৃষ্টিমবষ্টভ্য নষ্টাত্মানোহল্পবুদ্ধয়ঃ ৷
প্রভবন্ত্ত্যগ্রকর্মাণঃ ক্ষয়ায় জগতোহহিতাঃ ॥৯॥

এতাম্, দৃষ্টিম্, অবষ্টভ্য, নষ্ট-আত্মানঃ, অল্পবুদ্ধয়ঃ,
প্রভবন্তি, উগ্রকর্মাণঃ, ক্ষয়ায়, জগতঃ, অহিতাঃ ॥৯॥
অর্থ:- এই প্রকার সিন্ধান্ত অবলম্বন করে আত্মতত্ত্ব-জ্ঞানহীন, অল্প-বুদ্ধিসম্পন্ন, উগ্রকর্মা ও অনিষ্টকারী অসুরেরা জগৎ ধ্বংসকারী কার্যে প্রভাব বিস্তার করে।
শ্লোক:10:
কামমাশ্রিত্য দুঃষ্পূরং দম্ভমানমদান্বিতাঃ ৷
মোহাদ্ গৃহীত্বাসদ্ গ্রাহান্ প্রবর্তন্তেহশুচিব্রতাঃ ॥১০॥

কামম্, আশ্রিত্য, দুঃষ্পূরম্, দম্ভ-মান-মদ-অন্বিতাঃ ,
মোহাৎ, গৃহীত্বা, অসদ্ গ্রাহান, প্রবর্তন্তে, অশুচিব্রতাঃ ॥১০॥
অর্থ:- সেই আসুরিক ব্যক্তিগণ দুষ্পূরণীয় কামকে আশ্রয় করে দম্ভ, মান ও মদমত্ত হয়ে অশুচি কার্যে ব্রতী হয় এবং মোহবশত অসৎ বিষয়ে প্রবৃত্ত হয়।
শ্লোক:11:
চিন্তামপরিমেয়াং চ প্রলয়ান্তামুপাশ্রিতাঃ৷
কামোপভোগপরমা এতাবদিতি নিশ্চিতাঃ ॥১১॥

চিন্তাম্, অপরিমেয়াম্, চ, প্রলয়-অন্তাম্, উপাশ্রিতাঃ,
কাম-উপভোগ-পরমাঃ এতাবৎ, ইতি, নিশ্চিতাঃ ॥১১॥
অর্থ:-অপরিমেয় দুশ্চিন্তার আশ্রয় গ্রহণ করে মৃত্যুকাল পর্যন্ত ইন্দ্রিয়সুখ ভোগকেই তারা তাদের জীবনের চরম উদ্দেশ্য বলে মনে করে। এভাবেই শত শত আশাপাপে আবদ্ধ হয়ে এবং কাম ও ক্রোধ-পরায়ণ হয়ে তারা কাম উপভোগের জন্য অসৎ উপায়ে অর্থ সঞ্চয়ের চেষ্টা করে।
শ্লোক:12:
আশাপাশশতৈর্বদ্ধাঃ কামক্রোধ পরায়ণাঃ ।
ঈহন্তে কামভোগার্থমন্যায়েনার্থসঞ্চয়ান্ ॥১২॥

আশা-পাশ-শতৈঃ, বদ্ধাঃ. কাম-ক্রোধ-পরায়ণাঃ,
ঈহন্তে, কাম-ভোগার্থম্, অন্যায়েন, অর্থ-সঞ্চয়ান্ ॥১২॥
শ্লোক:13:
ইদমদ্য ময়া লব্ধমিমং প্রাপ্স্যে মনোরথম্ ।
ইদমস্তীদমপি মে ভবিষ্যতি পুনর্ধনম্ ॥১৩॥

ইদম্, অদ্য, ময়া, লব্ধম্, ইমম্, প্রাপ্স্যে, মনোরথম্ ,
ইদম্, অস্তি, ইদম্, অপি, মে, ভবিষ্যতি, পুনঃ, ধনম্ ॥১৩॥
শ্লোক:14:
অসৌ ময়া হতঃ শত্রুর্হনিষ্যে চাপরানপি ।
ঈশ্বরোহহমহং ভোগী সিদ্ধোহহং বলবান্ সুখী ॥১৪॥

অসৌ, ময়া, হতঃ, শত্রু, হনিষ্যে, চ, অপরান্, অপি,
ঈশ্বরঃ, অহম্, অহম্, ভোগী, সিদ্ধঃ, অহম্, বলবান্, সুখী ॥১৪॥
অর্থ:- অসুরস্বভাব ব্যক্তিরা মনে করে- "আজ আমার দ্বারা এত লাভ হয়েছে এবং আমার পরিকল্পনা অনুসারে আরও লাভ হবে। এখন আমার এত ধন আছে এবং ভবিষ্যতে আরও ধন লাভ হবে৷ ঐ শত্রু আমার দ্বারা নিহ্ত হয়েছে এবং অন্যান্য শত্রুদেরও আমি হ্ত্যা করব। আমিই ঈশ্বর, আমি ভোক্তা৷ আমিই সিদ্ধ, বলবান ও সুখী। আমি সবচেয়ে ধনবান এবং অভিজাত আত্মীয়-স্বজন পরিবৃত। আমার মতো আর কেউ নেই। আমি যজ্ঞ অনুষ্ঠান করব, দান করব এবং আনন্দ করব।" এভাবেই অসুরস্বভাব ব্যক্তিরা অজ্ঞানের দ্বারা বিমোহিত হয়। নানা প্রকার দুঃশ্চিন্তায় বিভ্রান্ত হয়ে এবং মোহজালে বিজড়িত হয়ে কামভোগে আসক্তচিত্ত সেই ব্যক্তিরা অশুচি নরকে পতিত হয়।
শ্লোক:15:
আঢ্যোহভিজনবানস্মি কোহন্যোহস্তি সদৃশো ময়া ।
যক্ষ্যে দাস্যামি মোদিষ্য ইত্যজ্ঞানবিমোহিতাঃ ॥১৫॥

আঢ্যঃ, অভিজনবান্, অস্মি, কঃ, অন্যঃ, অস্তি, সদৃশঃ, ময়া,
যক্ষ্যে, দাস্যামি, মোদিষ্য, ইতি, অজ্ঞান-বিমোহিতাঃ ॥১৫॥
শ্লোক:16:
অনেকচিত্তবিভ্রান্তা মোহজালসমাবৃতাঃ ।
প্রসক্তাঃ কামভোগেষু পতন্তি নরকেহশুচৌ ॥১৬॥

অনেকচিত্তবিভ্রান্তাঃ, মোহজালসমাবৃতাঃ,
প্রসক্তাঃ, কামভোগেষু ,পতন্তি, নরকে, অশুচৌ ॥১৬॥
শ্লোক:17:
আত্মসম্ভাবিতাঃ স্তব্ধা ধনমানমদান্বিতাঃ ।
যজন্তে নামযজ্ঞৈস্তে দম্ভেনাবিধিপূর্বকম্ ॥১৭॥

আত্মসম্ভাবিতাঃ, স্তব্ধাঃ, ধন-মান-মদান্বিতাঃ,
যজন্তে, নামযজ্ঞৈঃ, তে, দম্ভেন, অবিধিপূর্বকম্ ॥১৭॥
অর্থ:- সেই আত্মাভিমানী, অনম্র এবং ধন ও মানে মদান্বিত ব্যক্তিরা অবিধিপূর্বক দম্ভ সহকারে নামমাত্র যজ্ঞের অনুষ্ঠান করে।
শ্লোক:18:
অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং চ সংশ্রিতাঃ ।
মামাত্মপরদেহেষু প্রদ্বিষন্তোহভ্যসূয়কাঃ ॥১৮॥

অহঙ্কারম্, বলম্, দর্পম্, কামম্, ক্রোধম্, চ, সংশ্রিতাঃ ,
মাম্, আত্ম-পর-দেহেষু, প্রদ্বিষন্তঃ, অভ্যসূয়কাঃ ॥১৮॥
অর্থ:- অহঙ্কার, বল, দর্প, কাম ও ক্রোধকে আশ্রয় করে অসুরেরা স্বীয় দেহে ও পরদেহে অবস্থিত পরমেশ্বর স্বরূপ আমাকে দ্বেষ করে এবং সাধুদের গুণেতে দোষারোপ করে।
শ্লোক:19:
তানহং দ্বিষতঃ ক্রূরান্ সংসারেষু নরাধমান্ ।
ক্ষিপাম্যজস্রমশুভানাসুরীষ্বেব যোনিষু ॥১৯॥

তান্, অহম্, দ্বিষতঃ, ক্রূরান্, সংসারেষু, নর-অধমান্,
ক্ষিপামি, অজস্রম্, অশুভান্, আসুরীষু, এব, যোনিষু ॥১৯॥
অর্থ:- সেই বিদ্বেষী, ক্রূর ও নরাধমদের আমি এই সংসারেই অশুভ আসুরী যোনিতে অবিরত নিক্ষেপ করি।
শ্লোক:20:
আসুরীং যোনিমাপন্না মুঢ়া জন্মনি জন্মনি ।
মামপ্রাপ্যৈব কৌন্তেয় ততো যান্ত্যধমাং গতিম্ ॥২০॥

আসুরীম্, যোনিম্, আপন্নাঃ, মুঢ়াঃ, জন্মনি, জন্মনি ,
মাম্, অপ্রাপ্য, এব, কৌন্তেয়, ততঃ, যান্তি, অধমাম্, গতিম্ ॥২০॥
অর্থ:- হে কৌন্তেয় ! জন্মে জন্মে অসুরযোনি প্রাপ্ত হয়ে, সেই মুঢ় ব্যক্তিরা আমাকে লাভ করতে অক্ষম হয়ে তার থেকেও অধম গতি প্রাপ্ত হয়।
শ্লোক:21:
ত্রিবিধং নরকস্যেদং দ্বারং নাশনমাত্মনঃ ।
কামঃ ক্রোধস্তথা লোভস্তস্মাদেতত্রয়ং ত্যজেৎ ॥২১॥

ত্রিবিধম্, নরকস্য, ইদম্, দ্বারম্, নাশনম্, আত্মনঃ,
কামঃ, ক্রোধঃ, তথা, লোভঃ, তস্মাৎ, এতৎ, ত্রয়ম্, ত্যজেৎ ॥২১॥
অর্থ:- কাম, ক্রোধ ও লোভ- এই তিনটি নরকের দ্বার, অতএব ঐ তিনটি পরিত্যাগ করবে।
শ্লোক:22:
এতৈর্বিমুক্তঃ কৌন্তেয় তমোদ্বারৈস্ত্রিভির্নরঃ ।
আচরত্যাত্মনঃ শ্রেয়স্ততো যাতি পরাং গতিম্ ॥২২॥

এতৈঃ, বিমুক্তঃ, কৌন্তেয়, তমঃ-দ্বারৈঃ, ত্রিভিঃ, নরঃ,
আচরতি, আত্মনঃ, শ্রেয়ঃ, ততঃ, যাতি, পরাম্, গতিম্ ॥২২॥
অর্থ:- হে কৌন্তেয় ! এই তিন প্রকার তমোদ্বার থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ আত্মার শ্রেয় আচরণ করেন এবং তার ফলে পরাগতি লাভ করে থাকেন।
শ্লোক:23:
যঃ শাস্ত্রবিধিমুৎসৃজ্য বর্ততে কামকারতঃ ।
ন স সিদ্ধিমবাপ্নোতি ন সুখং ন পরাং গতিম্ ॥২৩॥

যঃ, শাস্ত্রবিধিম্, উৎসৃজ্য, বর্ততে, কামকারতঃ,
ন, সঃ, সিদ্ধিম্, অবাপ্নোতি, ন, সুখম্, ন, পরাম্, গতিম্ ॥২৩॥
অর্থ:- যে শাস্ত্রবিধি পরিত্যাগ করে কামাচারে বর্তমান থাকে, সে সিদ্ধি, সুখ অথবা পরাগতি লাভ করতে পারে না।
শ্লোক:24:
তস্মাচ্ছাস্ত্রং প্রমাণং তে কার্যাকার্যব্যবস্থিতৌ ।
জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি ॥২৪॥

তস্মাৎ শাস্ত্রম্, প্রমাণম্, তে, কার্য-অকার্য-ব্যবস্থিতৌ ,
জ্ঞাত্বা, শাস্ত্র-বিধান-উক্তম্, কর্ম, কর্তুম্, ইহ, অর্হসি ॥২৪॥
অর্থ:- অতএব, কর্তব্য ও অকর্তব্য নির্ধারণে শাস্ত্রই তোমার প্রমাণ। অতএব শাস্ত্রীয় বিধানে কথিত হয়েছে যে কর্ম, তা জেনে তুমি সেই কর্ম করতে যোগ্য হও।
ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগো' নাম ষোড়শোঽধ্যায়ঃ ॥১৬॥

শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৬শ অধ্যায়:- দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ -এর সার সংক্ষেপ:-

লেখক- শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
          এই অধ্যায়ে দৈব ও অসুরভাবের বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে বলে অধ্যায়ের নাম হয়েছে ‘দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ’। অধ্যায়ের মোট চব্বিশটি মন্ত্রই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের। তিনি বললেন- এই সংসারে দু’প্রকৃতির মানুষ অসুর প্রকৃতির। এক প্রকার মানুষ দেবপ্রকৃতি সম্পন্ন এবং অন্য প্রকার অসুর প্রকৃতির। পূর্বজন্মের সুকৃতি ও দুস্কৃতির ফল অনুযায়ী মানুষ দেব ও অসুরপ্রকৃতি সম্পন্ন হয়ে পরবর্তী অংশ পার্শ্ববর্তী কলামে, এখানে ক্লিক করুনঃ-
পার্শ্ববর্তী বিবরণের পরবর্তী অংশ
অসুরপ্রকৃতি সম্পন্ন হয়ে জন্মায়। দেব প্রকৃতির মানুষ সত্যপরায়ণ, ক্রোধশূন্য, ত্যাগ, দয়া, ক্ষমা-প্রভৃতি গুণের অধিকারী। তারা নির্ভীক ও দানেই তাদের পরিতৃপ্তি। যজ্ঞ তপস্যাদিতেই তাঁরা আনন্দ লাভ করে থাকেন। পক্ষান্তরে দাম্ভিকতা, ক্রোধ, অভিমান-এসব হচ্ছে অসুরপ্রকৃতির মানুষের চিরসহচর। অসুরপ্রকৃতির মানুষেরা ন্যায়-অন্যায় মেনে চলেনা। তারা ঈশ্বরে অবিশ্বাসী ও কামাসক্ত। পৃথিবীর সকল বস্তুই তারা ভোগের সামগ্রী মনে করে থাকে। ভোগে বাধা প্রাপ্ত হলেই তারা ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে। ভক্তিবিহীন অসুর প্রকৃতির মানুষেরা সকল কাজে আড়ম্বরপ্রিয়। অসুরপ্রকৃতির মানুষ মৃত্যুর পর নরকগামী হয় এবং সেখানে নানা দুর্ভোগ সহ্য করার পর পুনরায় পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে থাকে। জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা          

        ০১.অর্জুনবিষাদযোগ.  ০২.সাংখ্যযোগ ..  ০৩.কর্মযোগ..  ০৪.জ্ঞানযোগ..  ০৫.কর্মসন্যাসযোগ.  ০৬.ধ্যানযোগ...
   ০৭.জ্ঞান-বিজ্ঞানযোগ..  ০৮.অক্ষরব্রহ্মযোগ..  ০৯.রাজবিদ্যারাজগুহ্যযোগ.  ১০.বিভূতিযোগ..  ১১.বিশ্বরূপদর্শনযোগ.  ১২.ভক্তিযোগ...       ১৩.ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগ.  ১৪.গুণত্রয়বিভাগযোগ..  ১৫.পুরুষোত্তমযোগ..  ১৬.দৈবাসুরসম্পদবিভাগযোগ.  ১৭.শ্রদ্ধাত্রয়বিভাগযোগ.  ১৮.মোক্ষযোগ..

Say Something

ধন্যবাদ ! আপনার মতামত প্রেরিত হয়েছে ।
There was an error.
Please enter name.
Please enter valid email adress.
Please enter your comment.

geetasanghabd@gmail.com

anup02an@gmail.com

Thanks @ www.gitasanghabd.com
God Bless Everyone