শ্লোক: | =অনুবাদ= |
|
শ্লোক:1: অর্জুন উবাচ সন্ন্যাসস্য মহাবাহো তত্ত্বমিচ্ছামি বেদিতুম্ । ত্যাগস্য চ হৃষীকেশ পৃথক্কেশিনিসূদন ॥১॥ সন্ন্যাসস্য, মহাবাহো, তত্ত্বম্, ইচ্ছামি, বেদিতুম্, ত্যাগস্য, চ, হৃষীকেশ, পৃথক্, কেশি-নিসূদন ॥১॥ |
অর্থ:- অর্জুন বললেন- হে মহাবাহো ! হে হৃষীকেশ ! হে কেশিনিসূদন ! আমি সন্ন্যাস ও ত্যাগের তত্ত্ব পৃথকভাবে জানতে ইচ্ছা করি। |
|
শ্লোক:2: শ্রীভগবানুবাচ কাম্যানাং কর্মণাং ন্যাসং সন্ন্যাসং কবয়ো বিদুঃ । সর্বকর্মফলত্যাগং প্রাহুস্ত্যাগং বিচক্ষণাঃ ॥২॥ কাম্যানাম্, কর্মণাম্, ন্যাসম্, সন্ন্যাসম্, কবয়ঃ, বিদুঃ, সর্ব-কর্ম-ফল-ত্যাগম্, প্রাহুঃ, ত্যাগম্, বিচক্ষণাঃ ॥২॥ |
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- পণ্ডিতগণ কাম্য কর্মসমূহের ত্যাগকে সন্ন্যাস বলে জানেন এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিগণ সমস্ত কর্মফল ত্যাগকে ত্যাগ বলে থাকেন। |
|
শ্লোক:3: ত্যাজ্যং দোষবদিত্যেকে কর্ম প্রাহুর্মনীষিণঃ । যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যমিতি চাপরে ॥৩॥ ত্যাজ্যম্, দোষবৎ, ইতি, একে, কর্ম, প্রাহুঃ, মনীষিণঃ, যজ্ঞ-দান-তপঃ-কর্ম, ন, ত্যাজ্যম্, ইতি, চ, অপরে ॥৩॥ |
অর্থ:- এক শ্রেণীর মনীষীগণ বলেন যে, কর্ম দোষযুক্ত, সেই হেতু তা পরিত্যজ্য৷ অপর এক শ্রেণীর পণ্ডিত যজ্ঞ, দান, তপস্যা প্রভৃতি কর্মকে অত্যাজ্য বলে সিদ্ধান্ত করেছেন। |
|
শ্লোক:4: নিশ্চয়ং শৃণু মে তত্র ত্যাগে ভরতসত্তম । ত্যাগো হি পুরুষব্যাঘ্র ত্রিবিধঃ সংপ্রকীর্তিতঃ ॥৪॥ নিশ্চয়ম্, শৃণু, মে, তত্র, ত্যাগে, ভরতসত্তম, ত্যাগঃ, হি, পুরুষব্যাঘ্র, ত্রিবিধঃ, সংপ্রকীর্তিতঃ ॥৪॥ |
অর্থ:- হে ভরতসত্তম ! ত্যাগ সম্বন্ধে আমার নিশ্চয় সিদ্ধান্ত শ্রবণ কর ৷ হে পুরুষব্যাঘ্র ! শাস্ত্রে ত্যাগও তিন প্রকার বলে কীর্তিত হয়েছে। |
|
শ্লোক:5: যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজং কার্যমেব তৎ । যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্ ॥৫॥ যজ্ঞ-দান-তপঃ-কর্ম, ন, ত্যাজম্, কার্যম্, এব, তৎ, যজ্ঞঃ, দানম্, তপঃ, চ, এব, পাবনানি, মনীষিণাম্ ॥৫॥ |
অর্থ:- যজ্ঞ, দান ও তপস্যা ত্যাজ্য নয়, তা অবশ্যই করা কর্তব্য ৷ যজ্ঞ, দান ও তপস্যা মনীষীদের পর্যন্ত পবিত্র করে। |
|
শ্লোক:6: এতান্যপি তু কর্মাণি সঙ্গং ত্যক্ত্বা ফলানি চ । কর্তব্যানীতি মে পার্থ নিশ্চিতং মতমুত্তমম্ ॥৬॥ এতানি, অপি, তু, কর্মাণি, সঙ্গম্, ত্যক্ত্বা, ফলানি, চ, কর্তব্যানি, ইতি, মে, পার্থ, নিশ্চিতম্, মতম্, উত্তমম্ ॥৬॥ |
অর্থ:- হে পার্থ ! এই সমস্ত কর্ম আসক্তি ও ফলের আশা পরিত্যাগ করে কর্তব্যবোধে অনুষ্ঠান করা উচিত। ইহাই আমার নিশ্চিত উত্তম অভিমত। |
|
শ্লোক:7: নিয়তস্য তু সন্নাসঃ কর্মণো নোপপদ্যতে । মোহাত্তস্য পরিত্যাগস্তামসঃ পরিকীর্তিতঃ ॥৭॥ নিয়তস্য, তু, সন্নাসঃ, কর্মণঃ, ন, উপপদ্যতে, মোহাৎ, তস্য, পরিত্যাগঃ, তামসঃ, পরিকীর্তিতঃ ॥৭॥ |
অর্থ:- কিন্ত্ত নিত্যকর্ম ত্যাগ করা উচিত নয়৷ মোহবশত তার ত্যাগ হলে, তাকে তামসিক ত্যাগ বলা হয়। |
|
শ্লোক:8: দুঃখমিত্যেব যৎ কর্ম কায়ক্লেশভয়াত্ত্যজেৎ । স কৃত্বা রাজসং ত্যাগং নৈব ত্যাগফলং লভেৎ ॥৮॥ দুঃখম্, ইতি, এব, যৎ, কর্ম, কায়-ক্লেশ-ভয়াৎ, ত্যজেৎ, সঃ, কৃত্বা, রাজসম্, ত্যাগম্, ন, এব, ত্যাগফলম্, লভেৎ ॥৮॥ |
অর্থ:- যিনি নিত্যকর্মকে দুঃখজনক বলে মনে করে, দৈহিক ক্লেশের ভয়ে ত্যাগ করেন, তিনি অবশ্যই সেই রাজসিক ত্যাগ করে ত্যাগের ফল লাভ করেন না। |
|
শ্লোক:9: কার্যমিত্যেব যৎ কর্ম নিয়তং ক্রিয়তেহর্জুন । সঙ্গং ত্যক্ত্বা ফলং চৈব স ত্যাগঃ সাত্ত্বিকো মতঃ ॥৯॥ কার্যম্, ইতি, এব, যৎ, কর্ম, নিয়তম্, ক্রিয়তে, অর্জুন, সঙ্গম্, ত্যক্ত্বা, ফলম্, চ, এব, সঃ, ত্যাগঃ, সাত্ত্বিকঃ, মতঃ ॥৯॥ |
অর্থ:- হে অর্জুন ! আসক্তি ও ফল পরিত্যাগ করে কর্তব্যবোধে যে নিত্যকর্মের অনুষ্ঠান করা হয়, আমার মতে সেই ত্যাগ সাত্ত্বিক। |
|
শ্লোক:10: ন দ্বেষ্ট্যকুশলং কর্ম কুশলে নানুষজ্জতে । ত্যাগী সত্ত্বসমাবিষ্টো মেধাবী ছিন্নসংশয়ঃ ॥১০॥ ন, দ্বেষ্টি, অকুশলম্, কর্ম, কুশলে, ন, অনুষজ্জতে, ত্যাগী, সত্ত্ব-সমাবিষ্টঃ, মেধাবী, ছিন্ন-সংশয়ঃ ॥১০॥ |
অর্থ:- সত্ত্বগুণে আবিষ্ট, মেধাবী ও সমস্ত সংশয়-ছিন্ন ত্যাগী অশুভ কর্মে বিদ্বেষ করেন না এবং শুভ কর্মে আসক্ত হন না । |
|
শ্লোক:11: ন হি দেহভৃতা শক্যং ত্যক্তুং কর্মাণ্যশেষতঃ । যস্তু কর্মফলত্যাগী স ত্যাগীত্যভিধীয়তে ॥১১॥ ন, হি, দেহভৃতা, শক্যম্, ত্যক্তুম্, কর্মাণি, অশেষতঃ, যঃ, তু, কর্মফলত্যাগী, সঃ, ত্যাগী, ইতি, অভিধীয়তে ॥১১॥ |
অর্থ:- অবশ্যই দেহধারী জীবের পক্ষে সমস্ত কর্ম পরিত্যাগ করা সম্ভব নয়, কিন্ত্ত যিনি সমস্ত কর্মফল পরিত্যাগী, তিনিই বাস্তবিক ত্যাগী বলে অভিহিত হন। |
|
শ্লোক:12: অনিষ্টমিষ্টং মিশ্রং চ ত্রিবিধং কর্মণঃ ফলম্ । ভবত্যত্যাগিনাং প্রেত্য ন তু সন্ন্যাসিনাং ক্বচিৎ ॥১২॥ অনিষ্টম্, ইষ্টম্, মিশ্রম্, চ, ত্রিবিধম্, কর্মণঃ, ফলম্, ভবতি, অত্যাগিনাম্, প্রেত্য, ন, তু, সন্ন্যাসিনাম্, ক্বচিৎ ॥১২॥ |
অর্থ:- যাঁরা কর্মফল ত্যাগ করেননি, তাঁদের পরলোকে অনিষ্ট, ইষ্ট ও মিশ্র-- এই তিন প্রকার কর্মফল ভোগ হয়। কিন্তু সন্ন্যাসীদের কখনও ফলভোগ করতে হয় না। |
|
শ্লোক:13: পঞ্চৈতানি মহাবাহো কারণানি নিবোধ মে । সাংখ্যে কৃতান্তে প্রোক্তানি সিদ্ধয়ে সর্বকর্মণাম্ ॥১৩॥ পঞ্চ, এতানি, মহাবাহো, কারণানি, নিবোধ, মে, সাংখ্যে, কৃত-অন্তে, প্রোক্তানি, সিদ্ধয়ে, সর্বকর্মণাম্ ॥১৩॥ |
অর্থ:- হে মহাবাহো ! বেদান্ত শাস্ত্রের সিদ্ধান্তে সমস্ত কর্মের সিদ্ধির উদ্দেশ্যে এই পাঁচটি কারণ নির্দিষ্ট হয়েছে, আমার থেকে তা অবগত হও। |
|
শ্লোক:14: অধিষ্ঠানং তথা কর্তা করণং চ পৃথগ্ বিধম্ । বিবিধাশ্চ পৃথক্ চেষ্টা দৈবং চৈবাত্র পঞ্চমম্ ॥১৪॥ অধিষ্ঠানম্, তথা, কর্তা, করণম্, চ, পৃথক্-বিধম্, বিবিধাঃ, চ, পৃথক্, চেষ্টাঃ, দৈবম্, চ, এব, অত্র, পঞ্চমম্ ॥১৪॥ |
অর্থ:- অধিষ্ঠান অর্থাৎ দেহ, কর্তা, নানা প্রকার করণ অর্থাৎ ইন্দ্রিয়সমূহ, বিবিধ প্রচেষ্টা ও দৈব অর্থাৎ পরমাত্মা-- এই পাঁচটি হচ্ছে কারণ। |
|
শ্লোক:15: শরীরবাঙ্মনোভির্যৎ কর্ম প্রারভতে নরঃ । ন্যায্যং বা বিপরীতং বা পঞ্চৈতে তস্য হেতবঃ ॥১৫॥ শরীর-বাক্-মনোভিঃ, যৎ, কর্ম, প্রারভতে, নরঃ, ন্যায্যম্, বা, বিপরীতম্, বা, পঞ্চ, এতে, তস্য, হেতবঃ ॥১৫॥ |
অর্থ:- শরীর, বাক্য ও মনের দ্বারা মানুষ যে কর্ম আরম্ভ করে, তা ন্যায্যই হোক অথবা অন্যায্যই হোক, এই পাঁচটি তার কারণ। |
|
শ্লোক:16: তত্রৈবং সতি কর্তারমাত্মানং কেবলং তু যঃ । পশ্যত্যকৃতবুদ্ধিত্বান্ন স পশ্যতি দুর্মতিঃ ॥১৬॥ তত্র, এবম্, সতি, কর্তারম্, আত্মানম্, কেবলম্, তু, যঃ, পশ্যতি, অকৃত-বুদ্ধিত্বাৎ, ন, সঃ, পশ্যতি, দুর্মতিঃ ॥১৬॥ |
অর্থ:- অতএব, কর্মের পাঁচটি কারণের কথা বিবেচনা না করে নিজেকে কর্তা বলে মনে করে, বুদ্ধির অভাববশত সেই দুর্মতি যথাযথভাবে দর্শন করতে পারে না। |
| শ্লোক:17: যস্য নাহঙ্কৃতো ভাবো বুদ্ধির্যস্য ন লিপ্যতে । হত্বাপি স ইমাঁল্লোকান্ন হন্তি ন নিবধ্যতে ॥১৭॥ যস্য, ন, অহঙ্কৃতঃ, ভাবঃ, বুদ্ধিঃ, যস্য, ন, লিপ্যতে, হত্বা, অপি, সঃ, ইমান্, লোকান্, ন, হন্তি, ন, নিবধ্যতে ॥১৭॥ |
অর্থ:- যাঁর অহঙ্কারের ভাব নেই এবং যাঁর বুদ্ধি কর্মফলে লিপ্ত হয় না, তিনি এই সমস্ত প্রাণীকে হত্যা করেও হত্যা করেন না এবং হত্যার কর্মফলে আবদ্ধ হন না। |
| শ্লোক:18: জ্ঞানং জ্ঞেয়ং পরিজ্ঞাতা ত্রিবিধা কর্মচোদনা । করণং কর্ম কর্তেতি ত্রিবিধঃ কর্মসংগ্রহঃ ॥১৮॥ জ্ঞানম্, জ্ঞেয়ম্, পরিজ্ঞাতা, ত্রিবিধা, কর্মচোদনা, করণম্, কর্ম, কর্তা, ইতি, ত্রিবিধঃ, কর্মসংগ্রহঃ ॥১৮॥ |
অর্থ:- জ্ঞান, জ্ঞেয় ও পরিজ্ঞাতা-- এই তিনটি কর্মের প্রেরণা; করণ, কর্ম ও কর্তা এই তিনটি কর্মের আশ্রয়। |
|
শ্লোক:19: জ্ঞানং কর্ম চ কর্তা চ ত্রিধৈব গুণভেদতঃ । প্রোচ্যতে গুণসংখ্যানে যথাবচ্ছৃণু তান্যপি ॥১৯॥ জ্ঞানম্, কর্ম, চ, কর্তা, চ, ত্রিধা, এব, গুণভেদতঃ, প্র-উচ্যতে, গুণসংখ্যানে, যথাবৎ, শৃণু, তানি, অপি ॥১৯॥ |
অর্থ:- প্রকৃতির তিনটি গুণ অনুসারে জ্ঞান, কর্ম ও কর্তা তিন প্রকার বলে কথিত হয়েছে৷ সেই সমস্তও যথযথ রূপে শ্রবণ কর। |
|
শ্লোক:20: সর্বভূতেষু যেনৈকং ভাবমব্যয়মীক্ষতে । অবিভক্তং বিভক্তেষু তজ্ জ্ঞানং বিদ্ধি সাত্ত্বিকম্ ॥২০॥ সর্বভূতেষু, যেন, একম্, ভাবম্, অব্যয়ম্, ঈক্ষতে, অবিভক্তম্, বিভক্তেষু, তৎ, জ্ঞানম্, বিদ্ধি, সাত্ত্বিকম্ ॥২০॥ |
অর্থ:- যে জ্ঞানের দ্বারা সমস্ত প্রাণীতে এক অবিভক্ত চিন্ময় ভাব দর্শন হয়, অনেক জীব পরস্পর ভিন্ন হলেও চিন্ময় সত্তায় তারা এক, সেই জ্ঞানকে সাত্ত্বিক বলে জানবে। |
|
শ্লোক:21: পৃথক্ত্বেন তু যজ্ জ্ঞানং নানাভাবান্ পৃথগ্ বিধান্ । বেত্তি সর্বেষু ভূতেষু তজ্ জ্ঞানং বিদ্ধি রাজসম্ ॥২১॥ পৃথক্ত্বেন, তু, যৎ, জ্ঞানম্, নানা-ভাবান্, পৃথক্-বিধান্, বেত্তি, সর্বেষু, ভূতেষু, তৎ, জ্ঞানম্, বিদ্ধি, রাজসম্ ॥২১॥ |
অর্থ:- যে জ্ঞানের দ্বারা সমস্ত প্রাণীতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের আত্মা অবস্থিত বলে পৃথকরূপে দর্শন হয়, সেই জ্ঞানকে রাজসিক বলে জানবে। |
|
শ্লোক:22: যত্তু কৃৎস্নবদেকস্মিন্ কার্যে সক্তমহৈতুকম্ । অতত্ত্বার্থবদল্পং চ তত্তামসমুদাহৃতম্ ॥২২॥ যৎ, তু, কৃৎস্নবৎ, একস্মিন্, কার্যে, সক্তম্, অহৈতুকম্, অতত্ত্বার্থবৎ, অল্পম্, চ, তৎ, তামসম্, উদাহৃতম্ ॥২২॥ |
অর্থ:- আর যে জ্ঞানের দ্বারা প্রকৃত তত্ত্ব অবগত না হয়ে, কোন একটি বিশেষ কার্যে পরিপূর্ণ্যের ন্যায় আসক্তির উদয় হয়, সেই তুচ্ছ জ্ঞানকে তামসিক জ্ঞান বলে কথিত হয়। |
|
শ্লোক:23: নিয়তং সঙ্গরহিতমরাগদ্বেষতঃ কৃতম্ । অফলপ্রেপ্সুনা কর্ম যত্তৎসাত্ত্বিকমুচ্যতে ॥২৩॥ নিয়তম্, সঙ্গরহিতম্, অরাগদ্বেষতঃ, কৃতম্, অফল-প্রেপ্সুনা, কর্ম, যৎ, তৎ, সাত্ত্বিকম্, উচ্যতে ॥২৩॥ |
অর্থ:- ফলের কামনাশূন্য ও আসক্তি রহিত হয়ে রাগ ও দ্বেষ বর্জনপূর্বক যে নিত্যকর্ম অনুষ্ঠিত হয়, তাকে সাত্ত্বিক কর্ম বলা হয়। |
|
শ্লোক:24: য্ত্তু কামেপ্সুনা কর্ম সাহঙ্কারেণ বা পুনঃ । ক্রিয়তে বহুলায়াসং তদ্ রাজসমুদাহৃতম্ ॥২৪॥ য্ৎ, তু, কাম-ঈপ্সুনা, কর্ম, স-অহঙ্কারেণ, বা, পুনঃ, ক্রিয়তে, বহুল-আয়াসম্, তৎ, রাজসম্, উদাহৃতম্ ॥২৪॥ |
অর্থ:- কিন্তু ফলের আকাঙ্ক্ষাযুক্ত ও অহঙ্কারযুক্ত হয়ে বহু কষ্টসাধ্য করে যে কর্মের অনুষ্ঠান হয়, সেই কর্ম রাজসিক বলে অভিহিত হয়। |
|
শ্লোক:25: অনুবন্ধং ক্ষয়ং হিংসামনপেক্ষ্য চ পৌরুষম্ । মোহাদারভ্যতে কর্ম যত্তত্তামসমুচ্যতে ॥২৫॥ অনুবন্ধম্, ক্ষয়ম্, হিংসাম্, অনপেক্ষ্য, চ, পৌরুষম্ , মোহাৎ, আরভ্যতে, কর্ম, যৎ, তৎ, তামসম্, উচ্যতে ॥২৫॥ |
অর্থ:- ভাবী বন্ধন, ধর্ম জ্ঞানাদির ক্ষয়, হিংসা এবং নিজ সামর্থ্যের পরিণতির কথা বিবেচনা না করে মোহবশত যে কর্ম অনুষ্ঠিত হয়, তাকে তামসিক কর্ম বলা হয়। |
|
শ্লোক:26: মুক্তসঙ্গোহনহংবাদী ধৃত্যুৎসাহসমন্বিতঃ । সিদ্ধ্যসিদ্ধ্যোর্নির্বিকারঃ কর্তা সাত্ত্বিক উচ্যতে ॥২৬॥ মুক্তসঙ্গঃ, অনহংবাদী, ধৃতি-উৎসাহ-সমন্বিতঃ, সিদ্ধ-অসিদ্ধ্যোঃ, নির্বিকারঃ, কর্তা, সাত্ত্বিকঃ, উচ্যতে ॥২৬॥ |
অর্থ:- সমস্ত জড় আসক্তি থেকে মুক্ত, অহঙ্কারশূন্য, ধৃতি ও উৎসাহ সমন্বিত এবং সিদ্ধি ও অসিদ্ধিতে নির্বিকার-- এরূপ কর্তাকেই সাত্ত্বিক বলা হয়। |
|
শ্লোক:27: রাগী কর্মফলপ্রেপ্সুর্লুব্ধো হিংসাত্মকোহশুচিঃ । হর্ষশোকান্বিতঃ কর্তা রাজসঃ পরিকীর্তিতঃ ॥২৭॥ রাগী, কর্মফল-প্রেপ্সুঃ, লুব্ধঃ, হিংসাত্মকঃ, অশুচিঃ, হর্ষ-শোক-অন্বিতঃ, কর্তা, রাজসঃ, পরিকীর্তিতঃ ॥২৭॥ |
অর্থ:- কর্মাসক্ত, কর্মফলে আকাঙ্ক্ষী, লোভী, হিংসাপ্রিয়, অশুচি, হর্ষ ও শোকযুক্ত যে কর্তা, সে রাজসিক কর্তা বলে কথিত হয়। |
|
শ্লোক:28: অযুক্তঃ প্রাকৃতঃ স্তব্ধঃ শঠো নৈষ্কৃতিকোহলসঃ । বিষাদী দীর্ঘসূত্রী চ কর্তা তামস উচ্যতে ॥২৮॥ অযুক্তঃ, প্রাকৃতঃ, স্তব্ধঃ, শঠঃ, নৈষ্কৃতিকঃ, অলসঃ, বিষাদী, দীর্ঘসূত্রী, চ, কর্তা, তামসঃ, উচ্যতে ॥২৮॥ |
অর্থ:- অনুচিত কার্যপ্রিয়, জড় চেষ্টাযুক্ত, অনম্র, শঠ, অন্যের অবমাননাকারী, অলস, বিষাদযুক্ত ও দীর্ঘসূত্রী যে কর্তা, তাকে তামসিক কর্তা বলা হয়। |
|
শ্লোক:29: বুদ্ধের্ভেদং ধৃতেশ্চৈব গুণতস্ত্রিবিধং শৃণু । প্রোচ্যমানমশেষেণ পৃথক্ত্বেন ধনঞ্জয় ॥২৯॥ বুদ্ধেঃ, ভেদম্, ধৃতেঃ, চ, এব, গুণতঃ, ত্রিবিধম্, শৃণু, প্র-উচ্যমানম্, অশেষেণ, পৃথক্-ত্বেন, ধনঞ্জয় ॥২৯॥ |
অর্থ:- হে ধনঞ্জয় ! জড়া প্রকৃতির ত্রিগুণ অনুসারে বুদ্ধির ও ধৃতির যে ত্রিবিধ ভেদ আছে, তা আমি বিস্তারিতভাবে ও পৃথকভাবে বলছি, তুমি শ্রবণ কর। |
|
শ্লোক:30: প্রবৃত্তিং চ নিবৃত্তিং চ কার্যাকার্যে ভয়াভয়ে । বন্ধং মোক্ষং চ যা বেত্তি বুদ্ধিঃ সা পার্থ সাত্ত্বিকী ॥৩০॥ প্রবৃত্তিম্, চ, নিবৃত্তিম্, চ, কার্য-অকার্যে, ভয়-অভয়ে, বন্ধম্, মোক্ষম্, চ, যা, বেত্তি, বুদ্ধিঃ, সা, পার্থ, সাত্ত্বিকী ॥৩০॥ |
অর্থ:- হে পার্থ ! যে বুদ্ধির দ্বারা প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি, কার্য ও অকার্য, ভয় ও অভয়, বন্ধন ও মুক্তি- এই সকলের পার্থক্য জানতে পারা যায়, সেই বুদ্ধি সাত্ত্বিকী। |
|
শ্লোক:31: যয়া ধর্মমধর্মং চ কার্যং চাকার্যমেব চ । অযথাবৎ প্রজানাতি বুদ্ধিঃ সা পার্থ রাজসী ॥৩১॥ যয়া, ধর্মম্, অধর্মম্, চ, কার্যম্, চ, অকার্যম্, এব, চ, অযথাবৎ, প্রজানাতি, বুদ্ধিঃ, সা, পার্থ, রাজসী ॥৩১॥ |
অর্থ:- যে বুদ্ধির দ্বারা ধর্ম ও অধর্ম, কার্য ও অকার্য আদির পার্থক্য অসম্যক্ রূপে জানতে পারা যায়, সেই বুদ্ধি রাজসিকী। |
|
শ্লোক:32: অধর্মং ধর্মমিতি যা মন্যতে তমসাবৃতা । সর্বার্থান্ বিপরীতাংশ্চ বুদ্ধিঃ সা পার্থ তামসী ॥৩২॥ অধর্মম্, ধর্মম্, ইতি, যা, মন্যতে, তমসা, আবৃতা, সর্ব-অর্থান্, বিপরীতান্, চ, বুদ্ধিঃ, সা, পার্থ, তামসী ॥৩২॥ |
অর্থ:- হে পার্থ ! যে বুদ্ধি অধর্মকে ধর্ম এবং সমস্ত বস্তুকে বিপরীত বলে মনে করে, তমসাবৃত সেই বুদ্ধিই তামসিকী। |
|
শ্লোক:33: ধৃত্যা যয়া ধারয়তে মনঃপ্রাণেন্দ্রিয়ক্রিয়াঃ । যোগেনব্যভিচারিণ্যা ধৃতিঃ সা পার্থ সাত্ত্বিকী ॥৩৩॥ ধৃত্যা, যয়া, ধারয়তে, মনঃ-প্রাণ-ইন্দ্রিয়-ক্রিয়াঃ, যোগেন, অব্যভিচারিণ্যা, ধৃতিঃ, সা, পার্থ, সাত্ত্বিকী ॥৩৩॥ |
অর্থ:- হে পার্থ ! যে অব্যভিচারিণী ধৃতি যোগ অভ্যাস দ্বারা মন, প্রাণ ও ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়াসকলকে ধারণ করে, সেই ধৃতিই সাত্ত্বিকী। |
|
শ্লোক:34: যয়া তু ধর্মকামার্থান্ ধৃত্যা ধারয়তেহর্জুন । প্রসঙ্গেন ফলাকাঙ্ক্ষী ধৃতিঃ সা পার্থ রাজসী ॥৩৪॥ যয়া, তু, ধর্ম-কাম-অর্থান্, ধৃত্যা, ধারয়তে, অর্জুন, প্রসঙ্গেন, ফল-আকাঙ্ক্ষী, ধৃতিঃ, সা, পার্থ, রাজসী ॥৩৪॥ |
অর্থ:-হে অর্জুন ! হে পার্থ ! যে ধৃতি ফলাকাঙ্ক্ষার সহিত ধর্ম, অর্থ ও কামকে ধারণ করে, সেই ধৃতি রাজসী। |
|
শ্লোক:35: যয়া স্বপ্নং ভয়ং শোকং বিষাদং মদমেব চ । ন বিমুঞ্চতি দুর্মেধা ধৃতিঃ সা পার্থ তামসী ॥৩৫॥ যয়া, স্বপ্নম্, ভয়ম্, শোকম্, বিষাদম্, মদম্, এব, চ, ন, বিমুঞ্চতি, দুঃ-মেধাঃ, ধৃতিঃ, সা, পার্থ, তামসী ॥৩৫॥ |
অর্থ:- হে পার্থ ! যে ধৃতি স্বপ্ন, ভয়, শোক, বিষাদ, মদ আদিকে ত্যাগ করে না, সেই বুদ্ধিহীনা ধৃতিই তামসী। |
|
শ্লোক:36: সুখং ত্বিদানীং ত্রিবিধং শৃণু মে ভরতর্ষভ । অভ্যাসাদ্ রমতে যত্র দুঃখান্তং চ নিগচ্ছতি ॥৩৬॥ সুখম্, তু, ইদানীম্, ত্রিবিধম্, শৃণু, মে, ভরতর্ষভ, অভ্যাসাৎ, রমতে, যত্র, দুঃখ-অন্তম্, চ, নিগচ্ছতি ॥৩৬॥ |
অর্থ:- হে ভরতর্ষভ ! এখন তুমি আমার কাছে ত্রিবিধ সুখের বিষয় শ্রবণ কর ৷ বদ্ধ জীব পুনঃ পুনঃ অভ্যাসের দ্বারা সেই সুখে রমণ করে এবং যার দ্বারা সমস্ত দুঃখের অন্তলাভ করে থাকে। |
|
শ্লোক:37: যত্তদগ্রে বিষমিব পরিণামেহমৃতোপমম্ । তৎসুখং সাত্ত্বিকং প্রোক্তমাত্মবুদ্ধিপ্রসাদজম্ ॥৩৭॥ যৎ, তৎ, অগ্রে, বিষম্, ইব, পরিণামে, অমৃত-উপমম্, তৎ, সুখম্, সাত্ত্বিকম্, প্রো-উক্তম্, আত্ম-বুদ্ধি-প্রসাদজম্ ॥৩৭॥ |
অর্থ:- যে সুখ প্রথমে বিষের মতো কিন্তু পরিণামে অমৃততুল্য এবং আত্মনিষ্ঠ বুদ্ধির নির্মলতা থেকে জাত, সেই সুখ সাত্ত্বিক বলে কথিত হয়। |
|
শ্লোক:38: বিষয়েন্দ্রিয়সংযোগাদ্ যত্তদগ্রেহমৃতোপমম্ । পরিণামে বিষমিব তৎসুখং রাজসং স্মৃতম্ ॥৩৮॥ বিষয়-ইন্দ্রিয়-সংযোগাৎ, যৎ, তৎ, অগ্রে, অমৃত-উপমম্ । পরিণামে, বিষম্, ইব, তৎ, সুখম্, রাজসম্, স্মৃতম্ ॥৩৮॥ |
অর্থ:- বিষয় ও ইন্দ্রিয়ের সংযোগের ফলে যে সুখ প্রথমে অমৃতের মতো এবং পরিণামে বিষের মতো অনুভূত হয়, সেই সুখকে রাজসিক বলে কথিত হয়। |
|
শ্লোক:39: যদগ্রে চানুবন্ধে চ সুখং মোহনমাত্মনঃ । নিদ্রালস্যপ্রমাদোত্থং তত্তামসমুদাহৃতম্ ॥৩৯॥ যৎ, অগ্রে, চ, অনুবন্ধে, চ, সুখম্, মোহনম্, আত্মনঃ, নিদ্রা-আলস্য-প্রমাদোত্থম্, তৎ, তামসম্, উদাহৃতম্ ॥৩৯॥ |
অর্থ:- যে সুখ প্রথমে ও শেষে আত্মার মোহজনক এবং যা নিদ্রা, আলস্য ও প্রমাদ থেকে উৎপন্ন হয়, তা তামসিক সুখ বলে কথিত হয়। |
|
শ্লোক:40: ন তদস্তি পৃথিব্যাং বা দিবি দেবেষু বা পুনঃ । সত্ত্বং প্রকৃতিজৈর্মুক্তং যদেভিঃ স্যাৎ এিভির্গুণৈঃ ॥৪০॥ ন, তৎ, অস্তি, পৃথিব্যাম্, বা, দিবি, দেবেষু, বা, পুনঃ, সত্ত্বম্, প্রকৃতিজৈঃ, মুক্তম্, যৎ, এভিঃ, স্যাৎ, এিভিঃ, গুণৈঃ ॥৪০॥ |
অর্থ:- এই পৃথিবীতে মানুষদের মধ্যে অথবা স্বর্গে দেবতাদের মধ্যে এমন কোন প্রাণীর অস্তিত্ব নেই, যে প্রকৃতিজাত এই ত্রিগুণ থেকে মুক্ত। |
|
শ্লোক:41: ব্রাহ্মণক্ষত্রিয়বিশাং শূদ্রাণাং চ পরন্তপ । কর্মাণি প্রবিভক্তানি স্বভাবপ্রভবৈর্গুণৈঃ ॥৪১॥ ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বিশাম্, শূদ্রাণাম্, চ, পরন্তপ, কর্মাণি, প্রবিভক্তানি, স্বভাব-প্রভবৈঃ, গুণৈঃ ॥৪১॥ |
অর্থ:- হে পরন্তপ ! স্বভাবজাত গুণ অনুসারে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্রদের কর্মসমূহ বিভক্ত হয়েছে। |
|
শ্লোক:42: শমো দমস্তপঃ শৌচং ক্ষান্তিরার্জবমেব চ । জ্ঞানং বিজ্ঞানমাস্তিক্যং ব্রহ্মকর্ম স্বভাবজম্ ॥৪২॥ শমঃ, দমঃ, তপঃ, শৌচম্, ক্ষান্তিঃ, আর্জবম্, এব, চ, জ্ঞানম্, বিজ্ঞানম্, আস্তিক্যম্, ব্রহ্মকর্ম, স্বভাবজম্ ॥৪২॥ |
অর্থ:- শম, দম, তপ, শৌচ, ক্ষান্তি, সরলতা, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও আস্তিক্য- এগুলি ব্রাহ্মণদের স্বভাবজাত কর্ম। |
|
শ্লোক:43: শৌর্যং তেজো ধৃতির্দাক্ষ্যং যুদ্ধে চাপ্যপলায়নম্ । দানমীশ্বরভাবশ্চ ক্ষাত্রং কর্ম স্বভাবজম্ ॥৪৩॥ শৌর্যম্, তেজঃ, ধৃতিঃ দাক্ষ্যম্, যুদ্ধে, চ, অপি, অপলায়নম্, দানম্, ঈশ্বর-ভাবঃ, চ, ক্ষাত্রম্, কর্ম, স্বভাবজম্ ॥৪৩॥ |
অর্থ:- শৌর্য, তেজ, ধৃতি, দক্ষতা, যুদ্ধে অপলায়্ন, দান ও শাসন ক্ষমতা- এগুলি ক্ষত্রিয়ের স্বভাবজাত কর্ম । |
|
শ্লোক:44: কৃষিগোরক্ষ্যবাণিজ্যং বৈশ্যকর্ম স্বভাবজম্ । পরিচর্যাত্মকং কর্ম শূদ্রস্যাপি স্বভাবজম্ ॥৪৪॥ কৃষি-গো-রক্ষ্য-বাণিজ্যম্, বৈশ্যকর্ম, স্বভাবজম্, পরিচর্যাত্মকম্, কর্ম, শূদ্রস্য, অপি, স্বভাবজম্ ॥৪৪॥ |
অর্থ:- কৃষি, গোরক্ষা ও বাণিজ্য এই কয়েকটি বৈশ্যের স্বভাবজাত কর্ম এবং পরিচর্যাত্মক কর্ম শূদ্রের স্বভাবজাত । |
|
শ্লোক:45: স্বে স্বে কর্মণ্যভিরতঃ সংসিদ্ধিং লভতে নরঃ । স্বকর্মনিরতঃ সিদ্ধিং যথা বিন্দতি তচ্ছৃণু ॥৪৫॥ স্বে, স্বে, কর্মণী, অভিরতঃ, সংসিদ্ধিম্, লভতে, নরঃ, স্বকর্মনিরতঃ, সিদ্ধিম্, যথা, বিন্দতি, তৎ, শৃণু ॥৪৫॥ |
অর্থ:- নিজ নিজ কর্মে নিরত মানুষ সিদ্ধি লাভ করে থাকে৷স্বীয় কর্মে যুক্ত মানুষ যেভাবে সিদ্ধি লাভ করে, তা শ্রবণ কর। |
|
শ্লোক:46: যতঃ প্রবৃত্তির্ভূতানাং যেন সর্বমিদং ততম্ । স্বকর্মণা তমভ্যর্চ্য সিদ্ধিং বিন্দতি মানবঃ ॥৪৬॥ যতঃ, প্রবৃত্তিঃ, ভূতানাম্, যেন, সর্বম্, ইদম্, ততম্, স্ব-কর্মণা, তম, অভ্যর্চ্য, সিদ্ধিম্, বিন্দতি, মানবঃ ॥৪৬॥ |
অর্থ:- যাঁর থেকে সমস্ত জীবের পূর্ব বাসনারূপ প্রবৃত্তি হয়, যিনি এই সমগ্র বিশ্বে ব্যাপ্ত আছেন, তাঁকে মানুষ তার নিজের কর্মের দ্বারা অর্চন করে সিদ্ধি লাভ করে। |
|
শ্লোক:47: শ্রেয়ান্ স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ । স্বভাবনিয়তং কর্ম কুর্বন্নাপ্নোতি কিল্বিষম্ ॥৪৭॥ শ্রেয়ান্, স্বঃ-ধর্মঃ, বিগুণঃ, পরধর্মাৎ, সু-অনুষ্ঠিতাৎ, স্বভাব-নিয়তম্, কর্ম, কুর্বন্, ন, আপ্নোতি, কিল্বিষম্ ॥৪৭॥ |
অর্থ:- উত্তম রূপে অনুষ্ঠিত পরধর্ম অপেক্ষা অসম্যক রূপে অনুষ্ঠিত স্বধর্মই শ্রেয়। মানুষ স্বভাব-বিহিত কর্ম করে কোন পাপ প্রাপ্ত হয় না। |
|
শ্লোক:48: সহজং কর্ম কৌন্তেয় সদোষমপি ন ত্যজেৎ । সর্বারম্ভা হি দোষেণ ধুমেনাগ্নিরিবাবৃতাঃ ॥৪৮॥ সহজম্, কর্ম, কৌন্তেয়, সদোষম্, অপি, ন, ত্যজেৎ, সর্ব-আরম্ভাঃ, হি, দোষেণ, ধুমেন, অগ্নিঃ, ইব, আবৃতাঃ ॥৪৮॥ |
অর্থ:- হে কৌন্তেয় ! সহজাত কর্ম দোষযুক্ত হলেও ত্যাগ করা উচিত নয় । যেহেতু অগ্নি যেমন ধূমের দ্বারা আবৃত থাকে, তেমনই সমস্ত কর্মই দোষের দ্বারা আবৃত থাকে। |
|
শ্লোক:49: অসক্তবুদ্ধিঃ সর্বত্র জিতাত্মা বিগতস্পৃহঃ । নৈষ্কর্ম্যসিদ্ধিং পরমাং সন্ন্যাসেনাধিগচ্ছতি ॥৪৯॥ অসক্তবুদ্ধিঃ, সর্বত্র, জিত-আত্মা, বিগত-স্পৃহঃ, নৈষ্কর্ম্য-সিদ্ধিম্, পরমাম্, সন্ন্যাসেন, অধিগচ্ছতি ॥৪৯॥ |
অর্থ:- জড় বিষয়ে আসক্তিশূন্য বুদ্ধি, সংযতচিত্ত ও ভোগস্পৃহাশূন্য ব্যক্তি স্বরূপত কর্ম ত্যাগপূর্বক নৈষ্কর্মরূপ পরম সিদ্ধি লাভ করেন। |
|
শ্লোক:50: সিদ্ধিং প্রাপ্তো যথা ব্রহ্ম তথাপ্নোতি নিবোধ মে । সমাসেনৈব কৌন্তেয় নিষ্ঠা জ্ঞানস্য যা পরা ॥৫০॥ সিদ্ধিম্, প্রাপ্তঃ, যথা, ব্রহ্ম, তথা, আপ্নোতি, নিবোধ, মে, সমাসেন, এব, কৌন্তেয়, নিষ্ঠা, জ্ঞানস্য, যা, পরা ॥৫০॥ |
অর্থ:- হে কৌন্তেয় ! নৈষ্কর্ম সিদ্ধি লাভ করে জীব যেভাবে জ্ঞানের পরানিষ্ঠারূপ ব্রহ্মকে লাভ করেন, তা আমার কাছে সংক্ষেপে শ্রবণ কর। |
|
শ্লোক:51: বুদ্ধ্যা বিশুদ্ধয়া যুক্তো ধৃত্যাত্মানং নিয়ম্য চ । শব্দাদীন্ বিষয়াংস্ত্যক্ত্বা রাগদ্বেষৌ ব্যুদস্য চ ॥৫১॥ বুদ্ধ্যা, বিশুদ্ধয়া, যুক্তঃ, ধৃত্যা, আত্মানম্, নিয়ম্য, চ, শব্দাদীন্, বিষয়ান্, ত্যক্ত্বা, রাগদ্বেষৌ, ব্যুদস্য, চ ॥৫১॥ শ্লোক:52: বিবিক্তসেবী লঘ্বাশী যতবাক্কায়মানসঃ । ধ্যানযোগপরো নিত্যং বৈরাগ্যং সমুপাশ্রিতঃ ॥৫২॥ বিবিক্ত-সেবী, লঘু-আশী, যত-বাক্-কায়-মানসঃ, ধ্যানযোগ-পরঃ, নিত্যম্, বৈরাগ্যম্, সং-উপাশ্রিতঃ ॥৫২॥ শ্লোক:53: অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং পরিগ্রহম্ । বিমুচ্য নির্মমঃ শান্তো ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে ॥৫৩॥ অহঙ্কারম্, বলম্, দর্পম্, কামম্, ক্রোধম্, পরিগ্রহম্, বিমুচ্য, নির্মমঃ, শান্তঃ, ব্রহ্মভূয়ায়, কল্পতে ॥৫৩॥ |
অর্থ:- বিশুদ্ধ বুদ্ধিযুক্ত হয়ে মনকে ধৃতির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করে, শব্দ আদি ইন্দ্রিয় বিষয়সমূহ পরিত্যাগ করে, রাগ ও দ্বেষ বর্জন করে, নির্জন স্থানে বাস করে, অল্প আহার করে, দেহ, মন ও বাক্ সংযত করে, সর্বদা ধ্যানযোগে যুক্ত হয়ে বৈরাগ্য আশ্রয় করে, অহঙ্কার, বল, দর্প, কাম, ক্রোধ, পরিগ্রহ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে, মমত্ব বোধশূন্য শান্ত পুরুষ ব্রহ্ম-অনুভবে সমর্থ হন। |
|
শ্লোক:54: ব্রহ্মভূতঃ প্রসন্নাত্মা ন শোচতি ন কাঙ্ক্ষতি । সমঃ সর্বেষু ভূতেষু মদ্ভক্তিং লভতে পরাম্ ॥৫৪॥ ব্রহ্মভূতঃ, প্রসন্ন-আত্মা, ন, শোচতি, ন, কাঙ্ক্ষতি, সমঃ, সর্বেষু, ভূতেষু, মদ্ভক্তিম্, লভতে, পরাম্ ॥৫৪॥ |
অর্থ:- ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত প্রসন্নচিত্ত ব্যক্তি কোন কিছুর জন্য শোক করেন না বা আকাঙ্ক্ষা করেন না৷ তিনি সমস্ত প্রাণীর প্রতি সমদর্শী হয়ে আমার পরা ভক্তি লাভ করেন। |
|
শ্লোক:55: ভক্ত্যা মামভিজানাতি যাবান্ যশ্চাস্মি তত্ত্বতঃ । ততো মাং তত্ত্বতো জ্ঞাত্বা বিশতে তদনন্তরম্ ॥৫৫॥ ভক্ত্যা, মাম্, অভিজানাতি, যাবান্, যঃ, চ, অস্মি, তত্ত্বতঃ, ততঃ, মাম্, তত্ত্বতঃ, জ্ঞাত্বা, বিশতে, তৎ-অনন্তরম্ ॥৫৫॥ |
অর্থ:- ভক্তির দ্বারা কেবল স্বরূপত আমি যে রকম হই, সেরূপে আমাকে কেউ তত্ত্বত জানতে পারেন৷ এই প্রকার ভক্তির দ্বারা আমাকে তত্ত্বত জেনে, তার পরে তিনি আমার ধামে প্রবেশ করতে পারেন। |
|
শ্লোক:56: সর্বকর্মাণ্যপি সদা কুর্বাণো মদ্ ব্যপাশ্রয়ঃ । মৎপ্রসাদাদবাপ্নোতি শাশ্বতং পদমব্যয়ম্ ॥৫৬॥ সর্ব-কর্মাণি, অপি, সদা, কুর্বাণঃ, মদ্-ব্যপাশ্রয়ঃ, মৎ-প্রসাদাৎ, অবাপ্নোতি, শাশ্বতম্, পদম্, অব্যয়ম্ ॥৫৬॥ |
অর্থ:- আমার শুদ্ধ ভক্ত সর্বদা সমস্ত কর্ম করেও আমার প্রসাদে নিত্য অব্যয় ধাম লাভ করেন। |
|
শ্লোক:57: চেতসা সর্বকর্মাণি ময়ি সংনস্য মৎপরঃ । বুদ্ধিযোগমুপাশ্রিত্য মচ্চিত্তঃ সততং ভব ॥৫৭॥ চেতসা, সর্বকর্মাণি, ময়ি, সংনস্য, মৎপরঃ, বুদ্ধিযোগম্, উপাশ্রিত্য, মৎ-চিত্তঃ, সততম্, ভব ॥৫৭॥ |
অর্থ:- তুমি বুদ্ধির দ্বারা সমস্ত কর্ম আমাতে অর্পণ করে, মৎপরায়্ণ হয়ে, বুদ্ধিযোগের আশ্রয় গ্রহণপূর্বক সর্বদাই মদ্ গতচিত্ত হও। |
|
শ্লোক:58: মচ্চিত্তঃ সর্বদুর্গাণি মৎপ্রসাদাত্তরিষ্যসি । অথ চেত্বমহঙ্কারান্ন শ্রোষ্যসি বিনঙ্ক্ষ্যসি ॥৫৮॥ মৎ-চিত্তঃ, সর্বদুর্গাণি, মৎ-প্রসাদাৎ, তরিষ্যসি, অথ, চেৎ, ত্বম্, অঙ্কারাৎ, ন, শ্রোষ্যসি, বিনঙ্ক্ষ্যসি ॥৫৮॥ |
অর্থ:- এভাবেই মদ্ গতচিত্ত হলে তুমি আমার প্রসাদে সমস্ত প্রতিবন্ধক থেকে উত্তীর্ণ হবে। কিন্তু তুমি যদি অহঙ্কার-বশত আমার কথা না শোন, তা হলে বিনষ্ট হবে। |
|
শ্লোক:59: যদহঙ্কারমাশ্রিত্য ন যোৎস্য ইতি মন্যসে । মিথ্যৈষ ব্যবসায়স্তে প্রকৃতিস্ত্বাং নিযোক্ষ্যতি ॥৫৯॥ যৎ, অহঙ্কারম্, আশ্রিত্য, ন, যোৎস্য, ইতি, মন্যসে, মিথ্যা, এষঃ, ব্যবসায়ঃ, তে, প্রকৃতিঃ, ত্বাম্, নিযোক্ষ্যতি ॥৫৯॥ |
অর্থ:- যদি অহঙ্কারকে আশ্রয় করে 'যুদ্ধ করব না' এরূপ মনে কর, তা হলে তোমার সংকল্প মিথ্যাই হবে৷ কারণ, তোমার প্রকৃতি তোমাকে যুদ্ধে প্রবৃত্ত করবে। |
|
শ্লোক:60: স্বভাবজেন কৌন্তেয় নিবদ্ধঃ স্বেন কর্মণা । কর্তুং নেচ্ছসি যন্মোহাৎ করিষ্যস্যবশোহপি তৎ ॥৬০॥ স্বভাবজেন, কৌন্তেয়, নিবদ্ধঃ, স্বেন, কর্মণা, কর্তুম্, ন, ইচ্ছসি, যৎ, মোহাৎ, করিষ্যসি, অবশঃ, অপি, তৎ ॥৬০॥ |
অর্থ:- হে কৌন্তেয় ! মোহবশত তুমি এখন যুদ্ধ করতে ইচ্ছা করছ না, কিন্ত্ত তোমার নিজের স্বভাবজাত কর্মের দ্বারা বশবর্তী হয়ে অবশভাবে তুমি তা করতে প্রবৃত্ত হবে। |
|
শ্লোক:61: ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জুন তিষ্ঠতি । ভ্রাময়ন্ সর্বভূতানি যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়া ॥৬১॥ ঈশ্বরঃ, সর্বভূতানাম্, হৃৎ-দেশে, অর্জুন, তিষ্ঠতি, ভ্রাময়ন্, সর্বভূতানি, যন্ত্র-আরূঢ়ানি, মায়য়া ॥৬১॥ |
অর্থ:- হে অর্জুন ! পরমেশ্বর ভগবান সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থান করছেন এবং সমস্ত জীবকে দেহরূপ যন্ত্রে আহরণ করিয়ে মায়ার দ্বারা ভ্রমণ করান। |
|
শ্লোক:62: তমেব শরণং গচ্ছ সর্বভাবেন ভারত । তৎপ্রসাদাৎ পরাং শান্তিং স্থানং প্রাপ্স্যসি শাশ্বতম্ ॥৬২॥ তম্, এব, শরণম্, গচ্ছ, সর্বভাবেন, ভারত, তৎপ্রসাদাৎ, পরাম্, শান্তিম্, স্থানম্, প্রাপ্স্যসি, শাশ্বতম্ ॥৬২॥ |
অর্থ:- হে ভারত ! সর্বতোভাবে তাঁর শরণাগত হও। তাঁর প্রসাদে তুমি পরা শান্তি এবং নিত্য ধাম প্রাপ্ত হবে। |
|
শ্লোক:63: ইতি তে জ্ঞানমাখ্যাতং গুহ্যাদ্ গুহ্যতরং ময়া । বিমৃশ্যৈতদশেষেণ যথেচ্ছসি তথা কুরু ॥৬৩॥ ইতি, তে, জ্ঞানম্, আখ্যাতম্, গুহ্যাৎ, গুহ্যতরম্, ময়া, বিমৃশ্য, এতৎ, অশেষেণ, যথা, ইচ্ছসি, তথা, কুরু ॥৬৩॥ |
অর্থ:- এভাবেই আমি তোমাকে গুহ্য থেকে গুহ্যতর জ্ঞান বর্ণনা করলাম। তুমি তা সম্পূর্ণরূপে বিচার করে যা ইচ্ছা হয় তাই কর। |
|
শ্লোক:64: সর্বগুহ্যতমং ভূয়ঃ শৃণু মে পরমং বচঃ । ইষ্টোহসি মে দৃঢ়মিতি ততো বক্ষ্যামি তে হিতম্ ॥৬৪॥ সর্বগুহ্যতমম্, ভূয়ঃ, শৃণু, মে, পরমম্, বচঃ, ইষ্টঃ, অসি, মে, দৃঢ়ম্, ইতি, ততঃ, বক্ষ্যামি, তে, হিতম্ ॥৬৪॥ |
অর্থ:- তুমি আমার কাছ থেকে সবচেয়ে গোপনীয় পরম উপদেশ শ্রবণ কর। যেহেতু তুমি আমার অতিশয় প্রিয়, সেই হেতু তোমার হিতের জন্যই আমি বলছি৷ |
|
শ্লোক:65: মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্ যাজী মাং নমস্কুরু । মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্রিয়োহসি মে ॥৬৫॥ মৎ-মনা, ভব, মৎ-ভক্তঃ, মৎ-যাজী, মাম্, নমঃ-কুরু, মাম্, এব, এষ্যসি, সত্যম্, তে, প্রতিজানে, প্রিয়ঃ, অসি, মে ॥৬৫॥ |
অর্থ:- তুমি আমাতে চিত্ত অর্পণ কর, আমার ভক্ত হও, আমার পূজা কর এবং আমাকে নমস্কার কর। তা হলে তুমি আমাকে অবশ্যই প্রাপ্ত হবে ৷এই জন্য আমি তোমার কাছে সত্যই প্রতিজ্ঞা করছি, যেহেতু তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়। |
|
শ্লোক:66: সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ । অহং ত্বাং সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি মা শুচঃ ॥৬৬॥ সর্বধর্মান্, পরিত্যজ্য, মাম্, একম্, শরণম্, ব্রজ, অহম্, ত্বাম্, সর্বপাপেভ্যঃ, মোক্ষয়িষ্যামি, মা, শুচঃ ॥৬৬॥ |
অর্থ:- সর্ব প্রকার ধর্ম পরিত্যাগ করে কেবল আমার শরণাগত হও। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করব। তুমি শোক করো না। |
|
শ্লোক:67: ইদং তে নাতপস্কায় নাভক্তায় কদাচন । ন চাশুশ্রূষবে বাচ্যং ন চ মাং যোহভ্যসূয়তি ॥৬৭॥ ইদম্, তে, ন, অতপস্কায়, ন, অভক্তায়, কদাচন, ন, চ, অশুশ্রূষবে, বাচ্যম্, ন, চ, মাম্, যঃ, অভ্যসূয়তি ॥৬৭॥ |
অর্থ:- যারা সংযমহীন, অভক্ত, পরিচর্যাহীন এবং আমার প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন, তাদেরকে কখনও এই গোপনীয় জ্ঞান বলা উচিত নয়। |
|
শ্লোক:68: যঃ ইদং পরমং গুহ্যং মদ্ভক্তেষ্বভিধাস্যতি । ভক্তিং ময়ি পরাং কৃত্বা মামেবৈষ্যত্যসংশয়ঃ ॥৬৮॥ যঃ, ইদম্, পরমম্, গুহ্যম্, মৎ-ভক্তেষু, অভিধাস্যতি, ভক্তিম্, ময়ি, পরাম্, কৃত্বা, মাম্, এব, এষ্যতি, অসংশয়ঃ ॥৬৮॥ |
অর্থ:- যিনি আমার ভক্তদের মধ্যে এই পরম গোপনীয় গীতাবাক্য উপদেশ করেন, তিনি অবশ্যই পরা ভক্তি লাভ করে নিঃসংশয়ে আমার কাছে ফিরে আসবেন। |
|
শ্লোক:69: ন চ তস্মান্মনুষ্যেষু কশ্চিন্মে প্রিয়কৃত্তমঃ । ভবিতা ন চ মে তস্মাদন্যঃ প্রিয়তরো ভুবি ।৬৯॥ ন, চ, তস্মাৎ, মনুষ্যেষু, কশ্চিৎ, মে, প্রিয়কৃৎ-তমঃ, ভবিতা, ন, চ, মে, তস্মাৎ, অন্যঃ, প্রিয়তরঃ, ভুবি ।৬৯॥ |
অর্থ:- এই পৃথিবীতে মানুষদের মধ্যে তাঁর থেকে অধিক প্রিয়কারী আমার কেউ নেই এবং তাঁর থেকে অন্য কেউ আমার প্রিয়্তর হবে না। |
|
শ্লোক:70: অধ্যেষ্যতে চ য ইমং ধর্ম্যং সংবাদমাবয়োঃ । জ্ঞানযজ্ঞেন তেনাহমিষ্টঃ স্যামিতি মে মতিঃ ॥৭০॥ অধ্যেষ্যতে, চ, য, ইমম্, ধর্ম্যম্, সংবাদম্, আবয়োঃ, জ্ঞানযজ্ঞেন, তেন, অহম্, ইষ্টঃ, স্যাম, ইতি, মে, মতিঃ ॥৭০॥ |
অর্থ:- আর যিনি আমাদের এই পবিত্র কথোপকথন অধ্যয়ন করবেন, তাঁর সেই জ্ঞান যজ্ঞের দ্বারা আমি পূজিত হব। এই আমর অভিমত ৷ |
|
শ্লোক:71: শ্রদ্ধাবাননসূয়শ্চ শৃণুয়াদপি যো নরঃ । সোহপি মুক্তঃ শুভাঁল্লোকান্ প্রাপ্নুয়াৎ পুণ্যকর্মণাম্ ॥৭১॥ শ্রদ্ধাবান্, অনসূয়ঃ, চ, শৃণুয়াৎ, অপি, যঃ, নরঃ, সঃ, অপি, মুক্তঃ, শুভাঁন্, লোকান্, প্রাপ্নুয়াৎ, পুণ্যকর্মণাম্ ॥৭১॥ |
অর্থ:-শ্রদ্ধাবান ও অসূয়া-রহিত যে মানুষ গীতা শ্রবণ করেন, তিনিও পাপমুক্ত হয়ে পুণ্য কর্মকারীদের শুভ লোকসমূহ লাভ করেন। |
|
শ্লোক:72: কচ্চিদেতৎ শ্রুতং পার্থ ত্বয়ৈকাগ্রেণ চেতসা । কচ্চিদজ্ঞানসম্মোহঃ প্রণষ্টস্তে ধনঞ্জয় ॥৭২॥ কচ্চিৎ, এতৎ, শ্রুতম্, পার্থ, ত্বয়া, একাগ্রেণ, চেতসা, কচ্চিৎ, অজ্ঞান-সম্মোহঃ, প্রণষ্টঃ, তে, ধনঞ্জয় ॥৭২॥ |
অর্থ:-হে পার্থ ! হে ধনঞ্জয় ! তুমি একাগ্রচিত্তে এই গীতা জ্ঞান শ্রবণ করেছ কি ? তোমার অজ্ঞান-জনিত মোহ বিদূরিত হয়েছে কি ? |
|
শ্লোক:73: অর্জুন উবাচ নষ্টো মোহঃ স্মৃতির্লব্ধা ত্বৎপ্রসাদান্ময়াচ্যুত । স্থিতোহস্মি গতসন্দেহঃ করিষ্যে বচনং তব ॥৭৩॥ নষ্টঃ, মোহঃ, স্মৃতিঃ, লব্ধা, ত্বৎপ্রসাদাৎ, ময়া, অচ্যুত, স্থিতঃ, অস্মি, গত-সন্দেহঃ, করিষ্যে, বচনম্, তব ॥৭৩॥ |
অর্থ:- অর্জুন বললেন- হে অচ্যুত ! তোমার কৃপায় আমার মোহ দূর হয়েছে এবং আমি স্মৃতি লাভ করেছি৷ আমার সমস্ত সন্দেহ দূর হয়েছে এবং য্থাজ্ঞানে অবস্থিত হয়েছি৷এখন আমি তোমার আদেশ পালন করব। |
|
শ্লোক:74: সঞ্জয় উবাচ ইত্যহং বাসুদেবস্য পার্থস্য চ মহাত্মনঃ । সংবাদমিমমশ্রৌষমদ্ভুতং রোমহর্ষণম্ ॥৭৪॥ ইতি, অহম্, বাসুদেবস্য, পার্থস্য, চ, মহাত্মনঃ, সংবাদম্, ইমম্, অশ্রৌষম্, অদ্ভুতম্, রোমহর্ষণম্ ॥৭৪॥ |
অর্থ:- সঞ্জয় বললেন- এভাবেই আমি কৃষ্ণ ও অর্জুন দুই মহাত্মার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর সংবাদ শ্রবণ করেছিলাম। |
|
শ্লোক:75: ব্যাসপ্রসাদাচ্ছ্রুতবানেতদ্ গুহ্যমহং পরম্ । যোগং যোগেশ্বরাৎ কৃষ্ণাৎসাক্ষাৎকথয়তঃ স্বয়ম্ ॥৭৫॥ ব্যাস-প্রসাদাৎ, শ্রুতবান্, এতৎ, গুহ্যম্, অহম্, পরম্, যোগম্, যোগ-ঈশ্বরাৎ, কৃষ্ণাৎ, সাক্ষাৎ, কথয়তঃ, স্বয়ম্ ॥৭৫॥ |
অর্থ:- ব্যাসদেবের কৃপায়, আমি এই পরম গোপনীয় যোগ সাক্ষাৎ বর্ণনাকারী স্বয়ং যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে শ্রবণ করেছি। |
|
শ্লোক:76: রাজন্ সংস্মৃত্য সংস্মৃত্য সংবাদমিমমদ্ভুতম্ । কেশবার্জুনয়োঃ পুণ্যং হৃষ্যামি চ মুহুর্মুহুঃ ॥৭৬॥ রাজন্, সংস্মৃত্য, সংস্মৃত্য, সংবাদম্, ইমম্, অদ্ভুতম্ , কেশব-অর্জুনয়োঃ, পুণ্যম্, হৃষ্যামি, চ, মুহু-মুহুঃ ॥৭৬॥ |
অর্থ:- হে রাজন্ ! শ্রীকৃষ্ণ ও অর্জুনের এই পুণ্যজনক অদ্ভুত সংবাদ স্বরণ করতে করতে আমি বারংবার রোমাঞ্চিত হচ্ছি। |
|
শ্লোক:77: তচ্চ সংস্মৃত্য সংস্মৃত্য রূপমত্যদ্ভুতং হরেঃ । বিস্ময়ো মে মহান্ রাজন্ হৃষ্যামি চ পুনঃ পুনঃ ॥৭৭॥ তৎ, চ, সংস্মৃত্য, সংস্মৃত্য, রূপম্, অতি, অদ্ভুতম্, হরেঃ, বিস্ময়ঃ, মে, মহান্, রাজন্, হৃষ্যামি, চ, পুনঃ, পুনঃ ॥৭৭॥ |
অর্থ:- হে রাজন্ ! শ্রীকৃষ্ণের সেই অত্যন্ত অদ্ভুত রূপ স্মরণ করতে করতে আমি অতিশয় বিস্ময়াভিভূত হচ্ছি এবং বারংবার হরষিত হচ্ছি। |
|
শ্লোক:78: যত্র যোগেশ্বরঃ কৃষ্ণো যত্র পার্থো ধনুর্ধরঃ । তত্র শ্রীর্বিজয়ো ভূতির্ধ্রুবা নীতির্মতির্মম ॥৭৮॥ যত্র, যোগেশ্বরঃ, কৃষ্ণঃ, যত্র, পার্থঃ, ধনুর্ধরঃ, তত্র, শ্রীঃ বিজয়ঃ, ভূতিঃ, ধ্রুবা, নীতি, মতিঃ, মম ॥৭৮॥ |
অর্থ:- যেখানে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ এবং যেখানে ধনুর্ধর পার্থ, সেখানেই নিশ্চিতভাবে শ্রী, বিজয়, অসাধারণ শক্তি ও নীতি বর্তমান থাকে৷ সেটিই আমার অভিমত। |
| ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'মোক্ষযোগো' নাম অষ্টাদশোঽধ্যায়ঃ ॥১৮॥ | |