শ্লোক: | =অনুবাদ= |
|
শ্লোক:1: অর্জুন উবাচ প্রকৃতিং পুরুষং চৈব ক্ষেত্রং ক্ষেত্রজ্ঞমেব চ । এতদ্ বেদিতু্মিচ্ছামি জ্ঞানং জ্ঞেয়ং চ কেশব ॥১॥ প্রকৃতিম্, পুরুষম্, চ, এব, ক্ষেত্রম্, ক্ষেত্রজ্ঞম্, এব, চ, এতৎ, বেদিতু্ম্, ইচ্ছামি, জ্ঞানম্, জ্ঞেয়ম্, চ, কেশব ॥১॥ |
অর্থ:- অর্জুন বলিলেন- হে কেশব! আমি প্রকৃতি, পুরুষ, ক্ষেত্র, ক্ষেত্রজ্ঞ, জ্ঞান ও জ্ঞেয়- এই সমস্ত তত্ত্ব জানতে ইচ্ছা করি। |
|
শ্লোক:2: শ্রীভগবানুবাচ ইদং শরীরং কৌন্তেয় ক্ষেত্রমিত্যভিধীয়তে । এতদ্ যো বেত্তি তং প্রাহুঃ ক্ষেত্রজ্ঞ ইতি তদ্বিদঃ ॥২॥ ইদম্, শরীরম্, কৌন্তেয়, ক্ষেত্রম, ইতি, অভিধীয়তে, এতৎ, যঃ, বেত্তি, তম্, প্রাহুঃ, ক্ষেত্রজ্ঞঃ, ইতি, তৎ-বিদঃ ॥২॥ |
অর্থ:- পরমেশ্বর ভগবান বললেন- হে কৌন্তেয় ! এই শরীর ক্ষেত্র নামে অভিহিত এবং যিনি এই শরীরকে জানেন, তাঁকে ক্ষেত্রজ্ঞ বলা হয়। |
|
শ্লোক:3: ক্ষেত্রজ্ঞং চাপি মাং বিদ্ধি সর্বক্ষেত্রেষু ভারত । ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞয়োর্জ্ঞানং যত্তজ্ জ্ঞানং মতং মম ॥৩॥ ক্ষেত্রজ্ঞম্, চ, অপি, মাম্, বিদ্ধি, সর্বক্ষেত্রেষু, ভারত, ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞয়োঃ, জ্ঞানম্, যৎ, তৎ, জ্ঞানম্, মতম্, মম ॥৩॥ |
অর্থ:- হে ভারত ! আমাকেই সমস্ত ক্ষেত্রের ক্ষেত্রজ্ঞ বলে জানবে এবং ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞ সম্বন্ধে যে জ্ঞান, সেই জ্ঞানই আমার অভিমত। |
|
শ্লোক:4: তৎ ক্ষেত্রং যচ্চ যাদৃক্ চ যদ্বিকারি যতশ্চ যৎ । স চ যো যৎপ্রভাবশ্চ তৎ সমাসেন মে শৃণু ॥৪॥ তৎ, ক্ষেত্রম্, যৎ, চ, যাদৃক্, চ, যৎ-বিকারি, যতঃ, চ, যৎ, সঃ, চ, যঃ, যৎ-প্রভাবঃ, চ, তৎ, সমাসেন, মে, শৃণু ॥৪॥ |
অর্থ:- সেই ক্ষেত্র কি, তার কি প্রকার, তার বিকার কি, তা কার থেকে উৎপন্ন হয়েছে, সেই ক্ষেত্রজ্ঞের স্বরূপ কি এবং তার প্রভাব কি, সেই সব সংক্ষেপে আমার কাছে শ্রবণ কর। |
|
শ্লোক:5: ঋষিভির্বহুধা গীতং ছন্দোভির্বিবিধৈঃ পৃথক্ । ব্রহ্মসূত্রপদৈশ্চৈব হেতুমদ্ভির্বিনিশ্চিতৈঃ ॥৫॥ ঋষিভিঃ, বহুধা, গীতম্, ছন্দোভিঃ, বিবিধৈঃ, পৃথক্, ব্রহ্মসূত্র-পদৈঃ, চ, এব, হেতুমদ্ভিঃ, বিনিশ্চিতৈঃ ॥৫॥ |
অর্থ:- এই ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞের জ্ঞান ঋষিগণ কর্তৃক বিবিধ বেদবাক্যের দ্বারা পৃথক পৃথকভাবে বর্ণিত হয়েছে। বেদান্তসূত্রে তা বিশেষভাবে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত সহকারে বর্ণিত হয়েছে। |
|
শ্লোক:6: মহাভূতান্যহঙ্কারো বুদ্ধিরব্যক্তমেব চ । ইন্দিয়াণি দশৈকং চ পঞ্চ চেন্দ্রিয়গোচরাঃ ॥৬॥ মহাভূতানি, অহঙ্কারঃ, বুদ্ধিঃ, অব্যক্তম্, এব, চ, ইন্দিয়াণি, দশ, একম্, চ, পঞ্চ, চ, ইন্দ্রিয়-গোচরাঃ ॥৬॥ |
অর্থ:- পঞ্চ-মহাভূত, অহঙ্কার, বুদ্ধি, অব্যক্ত, দশ ইন্দিয় ও মন, ইন্দিয়ের পাঁচটি বিষয়, ইচ্ছা, দ্বেষ, সুখ, দুঃখ, সংঘাত অর্থাৎ পঞ্চমহাভূতের পরিণামরূপ দেহ, চেতনা ও ধৃতি- এই সমস্ত বিকারযুক্ত ক্ষেত্র সংক্ষেপে বর্ণিত হল। |
|
শ্লোক:7: ইচ্ছা দ্বেষঃ সুখং দুঃখং সংঘাতশ্চেতনা ধৃতিঃ । এতৎ ক্ষেত্রং সমাসেন সবিকারমুদাহৃতম্॥৭॥ ইচ্ছা, দ্বেষঃ, সুখম্, দুঃখম্, সংঘাতঃ, চেতনা, ধৃতিঃ, এতৎ, ক্ষেত্রম্, সমাসেন, সবিকারম্, উদাহৃতম্॥৭॥ |
|
|
শ্লোক:8: অমানিত্বমদম্ভিত্বমহিংসা ক্ষান্তিরার্জবম্ । আচার্যোপাসনং শৌচং স্থৈর্যমাত্মবিনিগ্রহঃ ॥৮॥ অমানিত্বম্, অদম্ভিত্বম্, অহিংসা, ক্ষান্তিঃ, আর্জবম্, আচার্য-উপাসনম্, শৌচম্, স্থৈর্যম্, আত্মবিনিগ্রহঃ ॥৮॥ শ্লোক:9: ইন্দ্রিয়ার্থেষু বৈরাগ্যমনহংঙ্কার এব চ । জন্মমৃত্যুজরাব্যাধিদুঃখদোষানুদর্শনম্ ॥৯॥ ইন্দ্রিয়-অর্থেষু, বৈরাগ্যম্, অনহংঙ্কারঃ, এব, চ, জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি-দুঃখ-দোষ-অনুদর্শনম্ ॥৯॥ শ্লোক:10: অসক্তিরনভিষ্বঙ্গঃ পুত্রদারগৃহাদিষু । নিত্যং চ সমচিত্তত্বমিষ্টানিষ্টোপপত্তিষু ॥১০॥ অসক্তিঃ, অনভিষ্বঙ্গঃ, পুত্র-দার-গৃহ-আদিষু, নিত্যম্, চ, সম-চিত্তত্বম্, ইষ্ট-অনিষ্ট-উপপত্তিষু ॥১০॥ শ্লোক:11: ময়ি চানন্যযোগেন ভক্তিরব্যভিচারিণী । বিবিক্তদেশসেবিত্বমরতির্জনসংসদি ॥১১॥ ময়ি, চ, অনন্যযোগেন, ভক্তিঃ, অব্যভিচারিণী, বিবিক্ত-দেশ-সেবিত্বম্, অরতিঃ, জনসংসদি ॥১১॥ শ্লোক:12: অধ্যাত্মজ্ঞাননিত্যত্বং তত্ত্বজ্ঞানার্থদর্শনম্ । এতজ্ জ্ঞানমিতি প্রোক্তমজ্ঞানং যদতোহন্যথা ॥১২॥ অধ্যাত্ম-জ্ঞান-নিত্যত্বম্, তত্ত্বজ্ঞান-অর্থ-দর্শনম্, এতৎ, জ্ঞানম্, ইতি, প্রোক্তম্, অজ্ঞানম্, যৎ, অতঃ, অন্যথা ॥১২॥ |
অর্থ:- অমানিত্ব, দম্ভশূন্যতা, অহিংসা, সহিষ্ণুতা, সরলতা, সদ্ গুরুর সেবা, শৌচ, স্থৈর্য, আত্মসংযম্, ইন্দ্রিয়-বিষয়ে বৈরাগ্য, অহঙ্কারশূন্যতা, জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি-দুঃখ আদির দোষ দর্শন, স্ত্রী-পুত্রাদির সুখ-দুঃখে ঔদাসীন্য, সর্বদা সমচিত্তত্ব, আমার প্রতি অনন্যা ও অব্যভিচারিণী ভক্তি, নির্জন স্থান প্রিয়তা, জনাকীর্ণ স্থানে অরুচি, অধ্যাত্ম জ্ঞানে নিত্যত্ববুদ্ধি এবং তত্ত্বজ্ঞানের প্রয়োজন অনুসন্ধান- এই সমস্ত জ্ঞান বলে কথিত হয় এবং এর বিপরীত যা কিছু তা সবই অজ্ঞান। |
|
শ্লোক:13: জ্ঞেয়ং যত্তৎপ্রবক্ষ্যামি য্জ্ জ্ঞাত্বামৃতমশ্নুতে । অনাদি মৎপরং ব্রহ্ম ন সত্তন্নাসদুচ্যতে ॥১৩॥ জ্ঞেয়ম্, যৎ, তৎ, প্রবক্ষ্যামি, য্ৎ, জ্ঞাত্বা, অমৃতম্, অশ্নুতে, অনাদি, মৎপরম্, ব্রহ্ম, ন, সৎ, তৎ, ন, অসৎ, উচ্যতে ॥১৩॥ |
অর্থ:- আমি এখন জ্ঞাতব্য বিষয় সম্বন্ধে বলব, যা জেনে অমৃতত্ত্ব লাভ হয়। সেই জ্ঞেয় বস্তু অনাদি এবং আমার আশ্রিত। তাকে বলা হয় ব্রহ্ম এবং তা কার্য ও কারণের অতীত। |
|
শ্লোক:14: সর্বতঃ পাণিপাদং তৎ সর্বতোহক্ষিশিরোমুখম্ । সর্বতঃ শ্রুতিমৎল্লোকে সর্বমাবৃত্য তিষ্ঠতি ॥১৪॥ সর্বতঃ-পাণি-পাদম্, তৎ, সর্বতঃ-হক্ষি-শিরঃ-মুখম্, সর্বতঃ, শ্রুতিমৎ, লোকে, সর্বম্, আবৃত্য, তিষ্ঠতি ॥১৪॥ |
অর্থ:- তাঁর হস্ত, পদ, চক্ষু, মস্তক ও মুখ সর্বত্রই এবং তিনি সর্বত্রই কর্ণযুক্ত৷ জগতে সবকিছুকেই পরিব্যাপ্ত করে তিনি বিরাজমান। |
|
শ্লোক:15: সর্বেন্দ্রিয়গুণাভাসং সর্বেন্দ্রিয়বিবর্জিতম্ । অসক্তং সর্বভৃচৈব নির্গুণং গুণভোক্তৃ চ ॥১৫॥ সর্ব-ইন্দ্রিয়-গুণ-আভাসম্, সর্ব-ইন্দ্রিয়-বিবর্জিতম্, অসক্তম্, সর্বভৃৎ, চ, এব, নিঃ-গুণম্, গুণভোক্তৃ, চ ॥১৫॥ |
অর্থ:- সেই পরমাত্মা সমস্ত ইন্দ্রিয়ের প্রকাশক, তবুও তিনি সমস্ত ইন্দ্রিয় বিবর্জিত। যদিও তিনি সকলের পালক তবুও তিনি সম্পূর্ণ অনাসক্ত। তিনি প্রকৃতির গুণের অতীত, তবুও তিনি সমস্ত গুণের ঈশ্বর। |
|
শ্লোক:16: বহিরন্তশ্চ ভূতানামচরং চরমেব চ । সুক্ষ্মত্বাত্তদবিজ্ঞেয়ং দূরস্থং চান্তিকে চ তৎ ॥১৬॥ বহিঃ, অন্তঃ, চ, ভূতানাম্, অচরম্, চরম্, এব, চ, সুক্ষ্মত্বাৎ, তৎ, অবিজ্ঞেয়ম্, দূরস্থম্, চ, অন্তিকে, চ, তৎ ॥১৬॥ |
অর্থ:- সেই পরমতত্ত্ব সমস্ত ভূতের অন্তরে ও বাহিরে বর্তমান। তাঁর থেকেই সমস্ত চরাচর; অত্যন্ত সূক্ষ্মতা হেতু তিনি অবিজ্ঞেয়। যদিও তিনি বহু দূরে অবস্থিত, তবুও তিনি সকলের অত্যন্ত নিকটে। |
| শ্লোক:17: অবিভক্তং চ ভূতেষু বিভক্তমিব চ স্থিতম্ । ভূতভর্তৃ চ তজ্ জ্ঞেয়ং গ্রসিষ্ণু প্রভবিষ্ণু চ ॥১৭॥ অবিভক্তম্, চ, ভূতেষু, বিভক্তম্, ইব, চ, স্থিতম্, ভূতভর্তৃ, চ, তৎ, জ্ঞেয়ম্, গ্রসিষ্ণু, প্রভবিষ্ণু, চ ॥১৭॥ |
অর্থ:- পরমাত্মাকে যদিও সমস্ত ভূতে বিভক্তরূপে বোধ হয়, কিন্তু তিনি অবিভক্ত। যদিও তিনি সর্বভূতের পালক, তবুও তাঁকে সংহার-কর্তা ও সৃষ্টিকর্তা বলে জানবে। |
| শ্লোক:18: জ্যোতিষামপি তজ্জ্যোতিস্তমসঃ পরমুচ্যতে । জ্ঞানং জ্ঞেয়ং জ্ঞানগম্যং হৃদি সর্বস্য বিষ্ঠিতম্ ॥১৮॥ জ্যোতিষাম্, অপি, তৎ, জ্যোতিঃ, তমসঃ, পরম্, উচ্যতে, জ্ঞানম্, জ্ঞেয়ম্, জ্ঞানগম্যম্, হৃদি, সর্বস্য, বিষ্ঠিতম্ ॥১৮॥ |
অর্থ:- তিনি সমস্ত জ্যোতিষ্কের পরম জ্যোতি৷ তাঁকে সমস্ত অন্ধকারের অতীত অব্যক্ত স্বরূপ বলা হয়। তিনিই জ্ঞান, তিনিই জ্ঞেয় এবং তিনিই জ্ঞানগম্য তিনি সকলের হৃদয়ে অবস্থিত। |
|
শ্লোক:19: ইতি ক্ষেত্রং তথা জ্ঞানং জ্ঞেয়ং চোক্তং সমাসতঃ । মদ্ভক্ত এতদ্বিজ্ঞায় মদ্ভাবায়োপপদ্যতে ॥১৯॥ ইতি, ক্ষেত্রম্, তথা, জ্ঞানম্, জ্ঞেয়ম্, চ, উক্তম্, সমাসতঃ, মৎ-ভক্তঃ, এতৎ, বিজ্ঞায়, মৎ-ভাবায়, উপপদ্যতে ॥১৯॥ |
অর্থ:- এভাবেই ক্ষেত্র, জ্ঞান ও জ্ঞেয়- এই তিনটি তত্ত্ব সংক্ষেপে বলা হল। আমার ভক্তই কেবল এই সমস্ত বিদিত হয়ে আমার ভাব লাভ করেন। |
|
শ্লোক:20: প্রকৃতিং পুরুষং চৈব বিদ্ধ্যনাদী উভাবপি । বিকারাংশ্চ গুণাংশ্চৈব বিদ্ধি প্রকৃতিসম্ভবান্ ॥২০॥ প্রকৃতিম্, পুরুষম্, চ, এব, বিদ্ধি, অনাদী, উভৌ, অপি, বিকারান্, চ, গুণান্, চ, এব, বিদ্ধি, প্রকৃতিসম্ভবান্ ॥২০॥ |
অর্থ:- প্রকৃতি ও পুরুষ উভয়ই অনাদি বলে জানবে। তাদের বিকার ও গুণসমূহ প্রকৃতি থেকেই উৎপন্ন বলে জানবে। |
|
শ্লোক:21: কার্যকারণকর্তৃত্বে হেতুঃ প্রকৃতিরুচ্যতে । পুরুষঃ সুখদুঃখানাং ভোক্তৃত্বে হেতুরুচ্যতে ॥২১॥ কার্য-কারণ-কর্তৃত্বে, হেতুঃ, প্রকৃতিঃ, উচ্যতে, পুরুষঃ, সুখদুঃখানাম্, ভোক্তৃত্বে, হেতুঃ, উচ্যতে ॥২১॥ |
অর্থ:- সমস্ত জড়ীয় কার্য ও কারণের কর্তৃত্ত্ব বিষয়ে প্রকৃতিকে হেতু বলা হয়, তেমনই জড়ীয় সুখ ও দুঃখের ভোগ বিষয়ে জীবকে হেতু বলা হয় । |
|
শ্লোক:22: পুরুষঃ প্রকৃতিস্থো হি ভুঙ্ ক্তে প্রকৃতিজান্ গুণান্ । কারণং গুণসঙ্গোহস্য সদসদ্ যোনিজন্মসু ॥২২॥ পুরুষঃ, প্রকৃতিস্থঃ, হি, ভুঙ্ ক্তে, প্রকৃতিজান্, গুণান্, কারণম্, গুণসঙ্গঃ, অস্য, সৎ-অসৎ-যোনি-জন্মসু ॥২২॥ |
অর্থ:- জড়া প্রকৃ্তিতে অবস্তিত হয়ে জীব প্রকৃতিজাত গুণসমূহ ভোগ করে। প্রকৃতির গুণের সঙ্গবসতই তার সৎ ও অসৎ যোনিসমূহে জন্ম হয়। |
|
শ্লোক:23: উপদ্রষ্টানুমন্তা চ ভর্তা ভোক্তা মহেশ্বরঃ । পরমাত্মেতি চাপ্যুক্তো দেহেহস্মিন্ পুরুষঃ পরঃ ॥২৩॥ উপ-দ্রষ্টা, অনুমন্তা, চ, ভর্তা, ভোক্তা, মহা-ঈশ্বরঃ, পরম-আত্মা, ইতি, চ, অপি, উক্তো, দেহে, অস্মিন্, পুরুষঃ, পরঃ ॥২৩॥ |
অর্থ:- এই শরীরে আর একজন পরম পুরুষ রয়েছেন, যিনি হচ্ছেন উপদ্রষ্টা, অনুমন্তা, ভর্তা, ভোক্তা, মহেশ্বর এবং তাঁকে পরমাত্মাও বলা হয়। |
|
শ্লোক:24: য এবং বেত্তি পুরুষং প্রকৃতিং চ গুণৈঃ সহ । সর্বথা বর্তমানোপি ন স ভূয়োহভিজায়তে ।২৪॥ যঃ, এবম্, বেত্তি, পুরুষম্, প্রকৃতিম্, চ, গুণৈঃ, সহ, সর্বথা, বর্তমানঃ, অপি, ন, সঃ, ভূয়ঃ, অভিজায়তে ।২৪॥ |
অর্থ:- যিনি এভাবেই পুরুষকে এবং গুণাদি সহ জড়া প্রকৃতিকে অবগত হন, তিনি জড় জগতে বর্তমান হয়েও পুনঃ পুনঃ জন্মগ্রহণ করেন না। |
|
শ্লোক:25: ধ্যানেনাত্মনি পশ্যন্তি কেচিদাত্মানমাত্মনা । অন্যে সাংখ্যেন যোগেন কর্মযোগেন চাপরে ॥২৫॥ ধ্যানেন, আত্মনি, পশ্যন্তি, কেচিৎ, আত্মানম্, আত্মনা, অন্যে, সাংখ্যেন, যোগেন, কর্মযোগেন, চ, অপরে ॥২৫॥ |
অর্থ:- কেউ কেউ পরমাত্মাকে অন্তরে ধ্যানের দ্বারা দর্শন করেন, কেউ সাংখ্য-যোগের দ্বারা দর্শন করেন এবং অন্যেরা কর্মযোগের দ্বারা দর্শন করেন। |
|
শ্লোক:26: অন্যে ত্বেবমজানন্তঃ শ্রুত্বান্যেভ্য উপাসতে। তেহপি চাতিতরন্ত্যেব মৃত্যুং শ্রুতিপরায়ণাঃ ॥২৬॥ অন্যে, তু, এবম্, অজানন্তঃ, শ্রুত্বা, অন্যেভ্যঃ, উপাসতে, তে, অপি, চ, অতিতরন্তি, এব, মৃত্যুম্, শ্রুতিপরায়ণাঃ ॥২৬॥ |
অর্থ:- অন্য কেউ কেউ এভাবেই না জেনে অন্যদের কাছ থেকে শ্রবণ করে উপাসনা করেন৷ তাঁরাও শ্রবণ-পরায়ণ হয়ে মৃত্যুময় সংসার অতিক্রম করেন। |
|
শ্লোক:27: যাবৎ সংজায়তে কিঞ্চিৎ সত্ত্বং স্থাবরজঙ্গমম্। ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞসংযোগাৎ তদ্বিদ্ধি ভরতর্ষভ ॥২৭॥ যাবৎ, সংজায়তে, কিঞ্চিৎ, সত্ত্বম্, স্থাবর-জঙ্গমম্, ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞ-সংযোগাৎ, তৎ, বিদ্ধি, ভরত-ঋষভ ॥২৭॥ |
অর্থ:- হে ভারতশ্রেষ্ঠ ! স্থাবর ও জঙ্গম যা কিছু অস্তিত্ত্ব আছে, তা সবই ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞের সংযোগ থেকে উৎপন্ন হয়েছে বলে জানবে। |
|
শ্লোক:28: সমং সর্বেষু ভূতেষু তিষ্ঠন্তং পরমেশ্বরম্ । বিনশ্যৎস্ববিনশ্যন্তং যঃ পশ্যতি স পশ্যতি ॥২৮॥ সমম্, সর্বেষু, ভূতেষু, তিষ্ঠন্তম্, পরম-ঈশ্বরম্ , বিনশ্যৎসু, অবিনশ্যন্তম্, যঃ, পশ্যতি, সঃ, পশ্যতি ॥২৮॥ |
অর্থ:- যিনি সর্বভূতে সমানভাবে অবস্থিত বিনাশশীল দেহের মধ্যেও অবিনাশী পরমাত্মাকে দর্শন করেন, তিনিই য্থার্থ দর্শন করেন। |
|
শ্লোক:29: সমং পশ্যন্ হি সর্বত্র সমবস্থিতমীশ্বরম্। ন হিনস্ত্যাত্মনাত্মানং ততো যাতি পরাং গতিম্ ॥২৯॥ সমম্, পশ্যন্, হি, সর্বত্র, সম্,-অবস্থিতম্, ঈশ্বরম্, ন, হিনস্তি, আত্মনা, আত্মানম্, ততঃ, যাতি, পরাম্, গতিম্ ॥২৯॥ |
অর্থ:- যিনি সর্বত্র সমভাবে অবস্থিত পরমাত্মাকে দর্শন করেন, তিনি কখনও মনের দ্বারা নিজেকে অধঃপতিত করেন না। এভাবেই তিনি পরম গতি লাভ করেন। |
|
শ্লোক:30: প্রকৃত্যৈব চ কর্মাণি ক্রিয়মাণানি সর্বশঃ । যঃ পশ্যতি তথাত্মানমকর্তারং স পশ্যতি ॥৩০॥ প্রকৃত্যা, এব, চ, কর্মাণি, ক্রিয়মাণানি, সর্বশঃ, যঃ, পশ্যতি, তথা আত্মানম্, অকর্তারম্, সঃ, পশ্যতি ॥৩০॥ |
অর্থ:- যিনি দর্শন করেন যে, দেহের দ্বারা কৃত সমস্ত কর্মই প্রকৃতির দ্বারা সম্পাদিত হয় এবং আত্মা হচ্ছে অকর্তা, তিনিই যথাযথভাবে দর্শন করেন। |
|
শ্লোক:31: যদা ভূতপৃথগ্ ভাবমেকস্থমনুপশ্যতি। তত এব চ বিস্তারং ব্রহ্ম সম্পদ্যতে তদা ॥৩১॥ যদা, ভূত-পৃথগ্-ভাবম্, একস্থম্, অনু-পশ্যতি, ততঃ, এব, চ, বিস্তারম্, ব্রহ্ম, সম্পদ্যতে, তদা ॥৩১॥ |
অর্থ:- য্খন বিবেকী পুরুষ জীবগণের পৃথক পৃথক অস্তিত্বকে একই প্রকৃতিতে অবস্থিত এবং একই প্রকৃতি থেকেই তাদের বিস্তার দর্শন করেন, তখন তিনি ব্রহ্মভাব প্রাপ্ত হন। |
|
শ্লোক:32: অনাদিত্বান্নির্গুণত্বাৎ পরমাত্মায়মব্যয়ঃ। শরীরস্থোহপি কৌন্তেয় ন করোতি ন লিপ্যতে ॥৩২॥ অনাদিত্বাৎ, নির্গুণত্বাৎ, পরম-আত্মা, অয়ম্, অব্যয়ঃ, শরীরস্থঃ, অপি, কৌন্তেয়, ন, করোতি, ন, লিপ্যতে ॥৩২॥ |
অর্থ:- ব্রহ্মভাব অবস্থায় জীব তখন দর্শন করেন যে, অব্যয় এই আত্মা অনাদি, নির্গুণ ও জড়া প্রকৃতির অতীত। হে কৌন্তেয় ! জড় দেহে অবস্থান করলেও আত্মা কোন কিছু করে না এবং কোন কিছুতেই লিপ্ত হয় না। |
|
শ্লোক:33: যথা সর্বগতং সৌক্ষ্ম্যাদাকাশং নোপলিপ্যতে । সর্বত্রাবস্থিতো দেহে তথাত্মা নোপলিপ্যতে ॥৩৩॥ যথা, সর্বগতম্, সৌক্ষ্ম্যাৎ, আকাশম্, ন, উপলিপ্যতে, সর্বত্র, অবস্থিতঃ, দেহে, তথা, আত্মা, ন, উপলিপ্যতে ॥৩৩॥ |
অর্থ:- আকাশ যেমন সর্বগত হয়েও সূক্ষ্মতা হেতু অন্য বস্তুতে লিপ্ত হয় না, তেমনই ব্রহ্ম দর্শন-সম্পন্ন জীবাত্মা দেহে অবস্থিত হয়েও দেহধর্মে লিপ্ত হন না। |
|
শ্লোক:34: যথা প্রকাশয়ত্যেকঃ কৃৎস্নং লোকমিমং রবিঃ । ক্ষেত্রং ক্ষেত্রী তথা কৃৎস্নং প্রকাশয়তি ভারত ॥৩৪॥ যথা, প্রকাশয়তি, একঃ, কৃৎস্নম্, লোকম্, ইমম্, রবিঃ, ক্ষেত্রম্, ক্ষেত্রী, তথা, কৃৎস্নম্, প্রকাশয়তি, ভারত ॥৩৪॥ |
অর্থ:- হে ভারত ! এক সূর্য যেমন সমগ্র জগৎকে প্রকাশ করে, সেই রকম ক্ষেত্রী আত্মাও সমগ্র ক্ষেত্রকে প্রকাশ করে। |
|
শ্লোক:35: ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞয়োরেবমন্তরং জ্ঞানচক্ষুষা । ভূতপ্রকৃতিমোক্ষং চ যে বিদুর্যান্তি তে পরম্ ॥৩৫॥ ক্ষেত্র-ক্ষেত্রজ্ঞয়োঃ, এবম্, অন্তরম্, জ্ঞানচক্ষুষা, ভূত-প্রকৃতি-মোক্ষম্, চ, যে, বিদুঃ, যান্তি, তে, পরম্ ॥৩৫॥ |
অর্থ:- যাঁরা এভাবেই জ্ঞানচক্ষুর দ্বারা ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞের পার্থক্য জানেন এবং জড়া প্রকৃতির বন্ধন থেকে জীবগণের মুক্ত হওয়ার পন্থা জানেন, তাঁরা পরম গতি লাভ করেন। |
| ওঁ তৎসদিতি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাসূপনিষৎসু ব্রহ্মবিদ্যায়াং যোগশাস্ত্রে শ্রীকৃষ্ণার্জুনসংবাদে 'ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগযোগো' নাম ত্রয়োদশোঽধ্যায়ঃ ॥১৩॥ | |